বেজিং: উৎপাদন বাড়ছে, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রির জন্য দামও কমাচ্ছে চিনের সংস্থাগুলি। তবু লাভের মুখ দেখছে না বহু সংস্থা। দেশের বাজারে ক্রেতার অভাব, আবাসন শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, সাধারণ মানুষের খরচে অনীহা—সব মিলিয়ে বিশ্বের অন্যতম শিল্পশক্তির অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক অসামঞ্জস্য। যে বিপুল উৎপাদনক্ষমতা একসময় চিনকে বিশ্বের কারখানা করে তুলেছিল, এখন সেই ক্ষমতাই ক্রমশ বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়লেও তার সুফল যদি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং সংস্থাগুলির মুনাফায় প্রতিফলিত না হয়, তবে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। চিনের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কাই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
চিনের এই প্রবণতাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হচ্ছে ‘ইনভলিউশন’। সহজ কথায়, এমন এক প্রতিযোগিতা যেখানে সংস্থাগুলি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম বাড়িয়েই চলে, কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদনশীলতা বা মুনাফা বাড়ে না। চিনে এই প্রবণতা পরিচিত ‘নেইজুয়ান’ নামে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, ব্যাটারি এবং খাবার সরবরাহের মতো ক্ষেত্রেও সংস্থাগুলি প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতে ক্রমাগত দাম কমাচ্ছে। বাজার দখলের এই লড়াইয়ে ক্রেতারা সাময়িক ভাবে সস্তায় পণ্য পেলেও সংস্থাগুলির মুনাফার উপর চাপ বাড়ছে। উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু লাভের অঙ্ক ক্রমশ ছোট হচ্ছে।
শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা, মুছল বিপুল সম্পদ
চিনের অর্থনীতির এই অসামঞ্জস্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ার বাজারেও। ২০২৬ সালের মে মাসে বাজারের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চিনের শেয়ার বাজারের মোট বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২.৪ লক্ষ কোটি ডলার মুছে গিয়েছে বলে একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। চিনের ৩০০টি বড় সংস্থাকে নিয়ে গঠিত সিএসআই ৩০০ সূচক জুনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নেমেছে। টানা দশ সপ্তাহ ধরে সূচকটির পতনের কথাও উঠে এসেছে ওই বিশ্লেষণে। সাংহাইয়ের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সূচক স্টার ৫০ জুনের শেষ দিকের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ নেমেছে।
কেন এই পতন? গত বছরের শেষ দিক থেকে চিনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার বাজারে যে উত্থান শুরু হয়েছিল, তার পিছনে ছিল সরকারি আর্থিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিপুল প্রত্যাশা এবং ডিপসিকের মতো সংস্থাকে ঘিরে উৎসাহ। বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করেছিলেন, প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ঢালার ফলে ভবিষ্যতে সংস্থাগুলির আয় দ্রুত বাড়বে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, এই বিনিয়োগের তুলনায় বাস্তবে কতটা মুনাফা আসবে?
প্রত্যাশার ভিত্তিতে শেয়ারের দাম যখন অনেকটা বেড়ে যায়, তখন সংস্থার প্রকৃত আয় সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে বাজারে সংশোধন শুরু হয়। চিনের প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, সমস্যা শুধু শেয়ার বাজারে দাম কমার নয়; বরং বিনিয়োগের বিপুল অঙ্কের বিপরীতে প্রত্যাশিত আয় কতটা হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আবাসন সঙ্কটে জেরবার পরিবার, কেনাকাটায় অনীহা
চিনের অর্থনীতির সমস্যার গভীরে রয়েছে আবাসন ক্ষেত্রের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট। ২০২১ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় দেশটিতে বাড়ির দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ন’মাসে আবাসন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমেছে ২০.৬ শতাংশ। একই সময়ে স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের পরিমাণও কমেছে ৭.২ শতাংশ।
চিনের বহু পরিবারের সঞ্চয়ের বড় অংশ আবাসন সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত। বাড়ির দাম কমলে সেই সম্পদের মূল্যও কমে যায়। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে পরিবারগুলি খরচের বদলে সঞ্চয়ে বেশি মনোযোগ দেয়। ফলে বাজারে পণ্য থাকলেও ক্রেতার চাহিদা বাড়ে না। এই পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলি বিক্রি বাড়াতে আরও দাম কমায়। তাতে মুনাফার মার্জিন আরও সঙ্কুচিত হয়।
পরিসংখ্যানেও তার ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে চিনে খুচরো বিক্রি বেড়েছে মাত্র ১.১ শতাংশ। এক বছর আগে বৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, শিল্প উৎপাদন ও রফতানিতে গতি থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কেনাকাটার উৎসাহ বাড়ছে না সেই অনুপাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা এখানেই। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কারখানায় বিনিয়োগ হচ্ছে, কিন্তু সেই পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত চাহিদা দেশের ভিতরে তৈরি হচ্ছে না। ফলে এক দিকে বাড়ছে উৎপাদন, অন্য দিকে জমছে অবিক্রীত পণ্য। উৎপাদন ও চাহিদার এই ফারাক যত বাড়বে, সংস্থাগুলির উপর তত বেশি চাপ তৈরি হবে।
রফতানিতে রেকর্ড, তবু ঘরোয়া বাজারে স্বস্তি নেই
চিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ছবি অবশ্য এখনও শক্তিশালী। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ১.১৯ লক্ষ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের রেকর্ডও এ বছর ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু রফতানির এই সাফল্যের পিছনেই লুকিয়ে রয়েছে নতুন সমস্যা। দেশের ভিতরে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকলে এবং কারখানার উৎপাদনক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে সংস্থাগুলি বিদেশের বাজারে পণ্য বিক্রির দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাজার দখলের জন্য অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত কম দামে পণ্য বিক্রি করা হয়। এতে চিনের সংস্থাগুলি বিদেশে প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেলেও অন্য দেশের উৎপাদকদের উপর চাপ বাড়ে।
এই প্রবণতা নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। চিনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এই অভিযোগে বিভিন্ন দেশে শুল্ক, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক সুরক্ষার দাবি জোরালো হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিনা গাড়ি নিয়ে বাণিজ্যিক সমঝোতা ও সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও পদক্ষেপ করেছে।
চিনের উৎপাদনক্ষমতা তাই একই সঙ্গে তার শক্তি এবং দুর্বলতার কারণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামের পণ্য ক্রেতাদের সুবিধা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা চললে অন্য দেশের উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন। পাল্টা শুল্ক এবং বাণিজ্যিক সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ে। ফলে রফতানির রেকর্ড থাকলেও চিনের সামনে প্রশ্ন—এই মডেল কত দিন টেকসই থাকবে?
চাকরি আছে, কিন্তু নিরাপত্তা কোথায়?
অর্থনীতির এই অসামঞ্জস্যের সামাজিক প্রভাবও কম নয়। সংস্থাগুলির মুনাফা কমলে বেতন বৃদ্ধি আটকে যেতে পারে, নতুন নিয়োগ কমতে পারে এবং ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিনের সামাজিক মাধ্যমে ‘ভুয়ো অফিসযাত্রা’ নিয়ে আলোচনার কথাও উঠে এসেছে। চাকরি হারানো কিছু মানুষ পরিবারের কাছে সেই খবর গোপন রাখতে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গ্রন্থাগারের মতো জায়গায় সময় কাটান—এমন অভিজ্ঞতা ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
চিনের অর্থনীতির সামগ্রিক বৃদ্ধির হার ইতিবাচক থাকলেও তার সুফল সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমান ভাবে পৌঁছচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। উৎপাদন ও রফতানি বাড়লেও যদি কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, আয় এবং ভোগের চাহিদা সেই অনুপাতে না বাড়ে, তা হলে অর্থনীতির ভিতরে অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
জনসংখ্যার পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের কারণ। ২০২৫ সালে চিনে জন্মের সংখ্যা কমে ৭৯.৩ লক্ষে নেমেছিল বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন। কর্মক্ষম জনসংখ্যার অনুপাতও কমছে। ভবিষ্যতে শ্রমবাজার, ভোগের চাহিদা এবং সামাজিক সুরক্ষার উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থাৎ, চিনের সমস্যা শুধু বেশি উৎপাদন নয়। সেই উৎপাদন থেকে তৈরি হওয়া আয় ও সম্পদের সুফল দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কতটা সাহায্য করছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকলে রফতানির উপর নির্ভরতা বাড়বে। আর বিদেশের বাজারে বাধা বাড়লে বিপুল উৎপাদনক্ষমতাই অর্থনীতির উপর বাড়তি বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের সামনে সুযোগ, আবার বিপদের ইঙ্গিতও
চিনের এই পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। এক দিকে চিনে চাহিদা দুর্বল থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমলে ভারত তেল, কয়লা ও লৌহ আকরিকের মতো পণ্য আমদানিতে সুবিধা পেতে পারে। অন্য দিকে, কম দামের চিনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ভারতের দেশীয় শিল্প, বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি চাপে পড়তে পারে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে চিন থেকে ভারতের আমদানি ৭৯৪১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চিনের সঙ্গে ভারতের বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতিও গত অর্থবর্ষের ১.১৬ লক্ষ কোটি ডলারের অঙ্ক ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আমদানির মধ্যে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। ফলে চিনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসালে দেশীয় উৎপাদকরা কিছুটা সুরক্ষা পেলেও চিন থেকে কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশ কেনা ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে।
ভারত ইতিমধ্যেই ইস্পাত ও রাসায়নিকের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ রয়েছে। তবে শুধু শুল্ক বসালেই সমস্যার সমাধান হবে না। দেশীয় শিল্পের উৎপাদনক্ষমতা, প্রযুক্তি, গুণমান এবং প্রতিযোগিতার দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি।
চিনের অভিজ্ঞতা ভারতের সামনে তাই দ্বিমুখী শিক্ষা তুলে ধরছে। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সেই পণ্যের জন্য দেশের ভিতরে যথেষ্ট চাহিদাও তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য প্রযুক্তি, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতায় উন্নতি প্রয়োজন। কম দামে পণ্য বিক্রি করে বাজার দখল করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলা তার চেয়ে আলাদা চ্যালেঞ্জ।
সাফল্যের দৌড়েই কি স্থবিরতার ফাঁদ?
চিনের অর্থনীতি এখনও বিশাল। তার শিল্পভিত্তি শক্তিশালী, প্রযুক্তি ও উৎপাদনে আন্তর্জাতিক প্রভাবও বিপুল। কিন্তু এই শক্তির পাশাপাশি দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, আবাসন সঙ্কট, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং সংস্থাগুলির মধ্যে মুনাফাহীন মূল্যযুদ্ধের সমস্যা ক্রমশ সামনে আসছে।
২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে চিনের জিডিপি বার্ষিক হিসাবে ৪.৫ শতাংশ বেড়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু রফতানি ও শিল্প উৎপাদনের তুলনায় খুচরো বিক্রির দুর্বলতা এবং আবাসন ক্ষেত্রে মন্দা অর্থনীতির ভিতরে ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামগ্রিক বৃদ্ধির হার ইতিবাচক হলেও সেই বৃদ্ধি কোথায় তৈরি হচ্ছে এবং তার সুফল কারা পাচ্ছেন, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
চিনের সামনে তাই শুধু উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নেই। প্রয়োজন দেশের মানুষের হাতে আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে শক্তিশালী করা এবং সংস্থাগুলিকে এমন প্রতিযোগিতার বাইরে আনা, যেখানে বিক্রি বাড়লেও মুনাফা ক্রমাগত কমে যায়।
বিপুল উৎপাদন, সস্তা পণ্য এবং রফতানির রেকর্ড—যে মডেল একসময় চিনকে বিশ্বের কারখানায় পরিণত করেছিল, সেই মডেলই এখন নতুন পরীক্ষার মুখে। উৎপাদনের দৌড় থেকে বেরিয়ে মানুষের চাহিদা ও জীবনযাত্রার উন্নতিকে অর্থনীতির কেন্দ্রে আনতে পারবে কি বেজিং? নাকি আরও বেশি উৎপাদন আর আরও কম দামের প্রতিযোগিতায় আটকে থেকেই সাফল্যের পরেও স্থবিরতার ফাঁদে পড়বে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি?




