JAZZBAAT 24 BANGLA
২৫ অক্টো ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
Breaking
CycloneArnab: অন্ধ্রে ল্যান্ডফল, তবু বাংলায় দুর্যোগের শঙ্কা! গতিপথ বদলে চোখ রাঙাচ্ছে ‘অর্ণ... Lakshmi Puja: লক্ষ্মীপুজোয় ঘট স্থাপনের নিয়ম কী? জানুন এর ধর্মীয় তাৎপর্য Donald Trump: মার্কিন নির্বাচনী প্রচারে ফের অপারেশন সিঁদুরের কৃতিত্ব দাবি ট্রাম্পের Akash Missile System: অস্ত্র রফতানিতে বড় সুযোগ, কিন্তু বাধা সেই অর্থের জোগান ADR Report: নারী-নির্যাতনের মামলা রয়েছে ১৮৭ সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে, তালিকার শীর্ষে বাংলা China Economic Crisis: উৎপাদন বাড়ছে, দাম কমছে, তবু লাভ নেই! SRFTI Students Protest : SRFTI-র আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন শাহ, বিতর্ক তুঙ্গে Lakshmi Puja: মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ ঘরে আঁকা হয় কেন? জানুন এর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য CycloneArnab: অন্ধ্রে ল্যান্ডফল, তবু বাংলায় দুর্যোগের শঙ্কা! গতিপথ বদলে চোখ রাঙাচ্ছে ‘অর্ণ... Lakshmi Puja: লক্ষ্মীপুজোয় ঘট স্থাপনের নিয়ম কী? জানুন এর ধর্মীয় তাৎপর্য Donald Trump: মার্কিন নির্বাচনী প্রচারে ফের অপারেশন সিঁদুরের কৃতিত্ব দাবি ট্রাম্পের Akash Missile System: অস্ত্র রফতানিতে বড় সুযোগ, কিন্তু বাধা সেই অর্থের জোগান ADR Report: নারী-নির্যাতনের মামলা রয়েছে ১৮৭ সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে, তালিকার শীর্ষে বাংলা China Economic Crisis: উৎপাদন বাড়ছে, দাম কমছে, তবু লাভ নেই! SRFTI Students Protest : SRFTI-র আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন শাহ, বিতর্ক তুঙ্গে Lakshmi Puja: মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ ঘরে আঁকা হয় কেন? জানুন এর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য

Akash Missile System: অস্ত্র রফতানিতে বড় সুযোগ, কিন্তু বাধা সেই অর্থের জোগান

Akash Missile System: অস্ত্র রফতানিতে বড় সুযোগ, কিন্তু বাধা সেই অর্থের জোগান
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নয়াদিল্লি: এত দিন বিদেশ থেকে অস্ত্র কেনার তালিকায় প্রথম সারিতে ছিল ভারত। এ বার সেই ছবিটাই বদলানোর চেষ্টা। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতে চাইছে নয়াদিল্লি। সেই উদ্যোগের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছে ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। আর্মেনিয়ার পর তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানেও এই ব্যবস্থার রফতানির কথা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মধ্য এশিয়ার বাজারে ভারতের এই প্রবেশকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞেরা। কিন্তু এই সাফল্যের পথেও রয়েছে বড় বাধা। বিদেশি বরাত হাতে এলেও তা বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ, কার্যকর আর্থিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা এখনও ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশের মতো দেশীয় অস্ত্রব্যবস্থার রফতানি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, কৌশলগত ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। যে সব দেশ এত দিন রাশিয়া বা চিনের কাছ থেকে অস্ত্র কিনত, তাদের একাংশ এখন সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা, যুদ্ধের কারণে অস্ত্র সরবরাহে চাপ এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে নতুন সরবরাহকারীর খোঁজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সামনে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আকাশে ভর করে মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশ

আকাশ একটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এর উৎপাদনে যুক্ত রয়েছে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড। শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং নির্দিষ্ট ধরনের আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুর মোকাবিলার জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আর্মেনিয়া প্রথম বিদেশি ক্রেতা হিসেবে আকাশ ব্যবস্থা পেয়েছে। পরে তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানেও তা রফতানি করা হয়েছে। তবে এই চুক্তিগুলির আর্থিক মূল্য এবং সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।

মধ্য এশিয়ায় ভারতের এই প্রবেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রভাব ছিল। অন্য দিকে, চিনও সামরিক সরঞ্জামের বাজারে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার নিজস্ব যুদ্ধের চাহিদা এবং অস্ত্র সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে রয়েছে কয়েকটি দেশ। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। আকাশের রফতানি শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করতে চাইছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারে। ভবিষ্যতে এই আস্থা তৈরি হলে রাডার, কামান, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বাজারেও ভারতের সুযোগ বাড়তে পারে।

উৎপাদন বাড়ছে, রফতানিতেও রেকর্ড

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রফতানির পরিসংখ্যানেও পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৬,৪২৯ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা রফতানিতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে রফতানির অঙ্ক ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং রফতানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া। লক্ষ্য পূরণ করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের নিশ্চয়তাও দিতে হবে। ভারত এখন শুধু যন্ত্রাংশ, খুচরো সরঞ্জাম বা কম প্রযুক্তির পণ্য রফতানির মধ্যে আটকে থাকতে চাইছে না। সম্পূর্ণ অস্ত্রব্যবস্থা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অস্ত্রের বিভিন্ন দেশীয় সংস্করণ সেই পরিবর্তনের উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রফতানি বাড়লে দেশীয় সংস্থাগুলির উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে, গবেষণা ও উন্নয়নের খরচ ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে এবং শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাতের উপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি শিল্পেরও লাভ হতে পারে। কারণ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিপুল সংখ্যক যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, ইলেকট্রনিক্স সংস্থা, বিশেষায়িত প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং পরিষেবা সংস্থা।

আসল সমস্যা অর্থের জোগানে

তবে বিদেশি বরাত পাওয়া আর সেই বরাত অনুযায়ী সরঞ্জাম তৈরি করে সময়মতো সরবরাহ করা এক বিষয় নয়। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, একাধিক পর্যায়ে পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং ক্রেতার নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন। অনেক ক্ষেত্রে চুক্তি পাওয়ার পরেও সংস্থাকে উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ করতে হয়। অথচ ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ হাতে আসতে সময় লাগে। এই জায়গাতেই আর্থিক সহায়তার সমস্যা বড় হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সময় শুধু অস্ত্রের গুণমান বা দাম নয়, ক্রেতাকে কী ধরনের অর্থায়নের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যদি সহজ ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি বা সরকারি আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবে প্রযুক্তিগত ভাবে ভাল পণ্য থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

ভারতে প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এক্সিম ব্যাঙ্কের ঋণ ও ক্রেডিট ব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিল্পমহলের অভিযোগ, বিদেশি বরাত পাওয়ার পরেও প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে জটিল প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত নথিপত্র এবং একাধিক পর্যায়ের অনুমোদনের মুখে পড়তে হয় সংস্থাগুলিকে। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থার পক্ষে এই প্রক্রিয়া সামলানো কঠিন। সরকার এক দিকে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্য দিকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলে সেই উদ্যোগের সুফল সীমিত হয়ে যেতে পারে। বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে চুক্তি জেতার পরেও যদি প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে উৎপাদন শুরু করতে দেরি হয়, তা হলে সরবরাহের সময়সীমা বিঘ্নিত হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই ক্রেতা অন্য দেশের সরবরাহকারীর দিকে ঝুঁকতেও পারেন।

সরকারি বরাতের বাইরে বেসরকারি শিল্পকে সুযোগ দিতে হবে

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সরকার-থেকে-সরকার চুক্তির মাধ্যমে সরঞ্জাম বিক্রির সুবিধা রয়েছে। কিন্তু ভারতের রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি সংস্থাকে শুধু উৎপাদনের অনুমতি দিলেই হবে না; বিদেশি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত আর্থিক পরিকাঠামোও তৈরি করতে হবে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের মতো উৎপাদন ও বিক্রির চক্র চলে না। বিদেশি ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নকশা বদল, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ের যাচাই, নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং সরবরাহ-পরবর্তী পরিষেবার প্রয়োজন হতে পারে। এই সব প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগে। তাই ঋণ দেওয়ার নিয়মও এমন হতে হবে, যাতে সংস্থাগুলি চুক্তি হাতে পাওয়ার পর উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, প্রতিরক্ষা রফতানির জন্য পৃথক আর্থিক কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। চুক্তির ভিত্তিতে কার্যকরী মূলধনের ঋণ, উপযুক্ত গ্যারান্টি এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকলে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কার্যকর ভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাও জরুরি। সব চুক্তির জন্য নির্বিচারে অর্থায়ন নয়, বরং যাচাই করা বিদেশি বরাত, ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রকল্পের বাস্তবসম্মত হিসাবের ভিত্তিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, লক্ষ্য শুধু বেশি ঋণ দেওয়া নয়; সঠিক সংস্থার কাছে সঠিক সময়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়া।

আকাশের সাফল্য কি অন্য অস্ত্রের পথ খুলবে?

আকাশের রফতানি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পেলে অন্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ভারতের পরিচিত প্রতিরক্ষা রফতানি পণ্যগুলির একটি। পাশাপাশি দেশীয় রাডার, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌবাহিনীর সরঞ্জাম রফতানিরও সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য দক্ষতা তৈরি হয়েছে। 

করভেট, ফ্রিগেট থেকে ডেস্ট্রয়ার—বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ছে। এই সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিরক্ষা রফতানির পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে অস্ত্র রফতানিতে সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর করে না। সময়মতো সরবরাহ, যন্ত্রাংশের ধারাবাহিক জোগান, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দেশ অস্ত্র কিনলে সাধারণত কয়েক বছরের জন্য সেই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। তাই ক্রেতার আস্থা অর্জন এবং তা ধরে রাখা ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা।

প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন নীতি কতটা জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরক্ষা রফতানি বাড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অনুমোদনকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রফতানি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বললেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিজস্ব নিয়ম ও অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে। এই ব্যবধান কমানো না গেলে শিল্পনীতির লক্ষ্য এবং বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক থেকে যাবে। রফতানি অনুমোদন, ঋণ, বিমা এবং অন্যান্য ছাড়পত্রের জন্য এক জানালার ব্যবস্থা তৈরি করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। এতে সংস্থাগুলিকে একাধিক দফতরে ঘুরতে হবে না এবং বিদেশি চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়াও দ্রুত হতে পারে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বড় সংস্থার পাশাপাশি হাজার হাজার ছোট সংস্থা যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষ প্রযুক্তি ও পরিষেবা সরবরাহ করে। তাদের জন্য সহজ ঋণ এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির নিশ্চয়তা তৈরি হলে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। সেই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি, দক্ষ কর্মী এবং গবেষণায় বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে।
আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্য তাই ভারতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র তৈরি করা এবং বিদেশে তার ক্রেতা পাওয়া—দু’টি ক্ষেত্রেই ভারত এগিয়েছে। 

এখন প্রয়োজন সেই সাফল্যকে ধারাবাহিক রফতানিতে পরিণত করা। ভারত কি বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র আমদানিকারক থেকে উল্লেখযোগ্য অস্ত্র রফতানিকারক হয়ে উঠতে পারবে? তার উত্তর শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বা প্রযুক্তির উৎকর্ষে লুকিয়ে নেই। বিদেশি ক্রেতাকে সময়মতো সরবরাহ, দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারলেই আকাশের সাফল্য অন্য দেশীয় অস্ত্রব্যবস্থার পথ খুলে দিতে পারে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের দৌড় থমকে যেতে পারে।

2 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

ADR Report: নারী-নির্যাতনের মামলা রয়েছে ১৮৭ সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে, তালিকার শীর্ষে বাংলা
দেশ

ADR Report: নারী-নির্যাতনের মামলা রয়েছে ১৮৭ সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে, তালিকার শীর্ষ...

কলকাতা: মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিশ্রুতির শেষ নেই। নারী-সুরক্ষা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজাও চলে নিয়মিত। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদেরই একাংশের নির্বাচনী হলফনামায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা থাকার তথ্য উঠে এলে প্...

২৫ অক্টো ২০২৬, ১০:৫২ এএম · 4 মিনিট
Viral News: পা দিয়ে মাখা হচ্ছে পরোটা তৈরির ময়দা! ভাইরাল ভিডিওতে স্বাস্থ‍্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন
দেশ

Viral News: পা দিয়ে মাখা হচ্ছে পরোটা তৈরির ময়দা! ভাইরাল ভিডিওতে স্বাস্থ‍্যবিধি নিয়...

নিউজ ডেস্ক: সকালের জলখাবার হোক বা বিকেলের টিফিন, পরোটা খেতে ভালবাসেন না এমন মানুষ কমই আছেন। তবে সেই পরোটা তৈরির পদ্ধতি দেখলে খাবারের মান নিয়ে উঠবে প্রশ্ন।  সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো ঘিরে তেমনই উদ্...

২৪ অক্টো ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম · 2 মিনিট
Tukaram Mundhe: ২১ বছরে ২৫ বার বদলি! নিজের সন্তানদের IAS হতে বারণ করছেন এই আমলা
দেশ

Tukaram Mundhe: ২১ বছরে ২৫ বার বদলি! নিজের সন্তানদের IAS হতে বারণ করছেন এই আমলা

নিউজ ডেস্ক: দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণের স্বপ্ন IAS অফিসার হওয়া। কেউ বছরের পর বছর UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন, কেউ আবার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেন প্রশাসনিক আধিকারিক হওয়ার। কিন্তু সেই IAS পদেই নিজের সন্তানদের দেখতে চান না মহার...

২৪ অক্টো ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.