নিউজ ডেস্ক: পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের দুর্যোগের ভ্রুকুটি। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সব ঠিক থাকলে আগামী বুধবার দুপুরের মধ্যেই স্থলভাগে আছড়ে পড়বে এই অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়। তবে সরাসরি বাংলায় ল্যান্ডফল না করলেও স্বস্তির কোনও কারণ দেখছেন না আবহবিদরা। কারণ, অন্ধ্রে প্রবেশের পরেই গতিপথ বদলে ‘ডানহাতি বাঁক’ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অর্ণবের। আর সেই পরিবর্তিত গতিমুখের সরাসরি খেসারত দিতে হতে পারে এই রাজ্যকে।
সূত্রে খবর, সাগরে শক্তি সঞ্চয় করে দ্রুত অতি তীব্র রূপ নিচ্ছে এই ঘূর্ণাবর্ত। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং বাপতলার মধ্যবর্তী কোনও এক উপকূলীয় অঞ্চলে এর আছড়ে পড়ার আশঙ্কা সর্বাধিক। ল্যান্ডফলের সময় অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটারে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে অন্ধ্র ও দক্ষিণ ওড়িশার বিস্তীর্ণ উপকূল এলাকা তছনছ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
এদিকে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী দিকবদল। হাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ, বুধবার দুপুরে অন্ধ্রে প্রবেশের পর অর্ণবের ডানহাতি মোড় বাংলা ও সংলগ্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় বড়সড় প্রভাব ফেলবে। গত সেপ্টেম্বর মাসে টানা নিম্নচাপের যে স্মৃতি এখনও সাধারণ মানুষের মনে তাজা, অর্ণবের প্রভাবে অনেকটা তেমনই জলছবির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। জলীয় বাষ্পের বিপুল প্রবেশের জেরে রাজ্যজুড়ে শুরু হবে দফায় দফায় বৃষ্টি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলবে। মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ওই দিন থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ শুরু হওয়ার কথা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুর্যোগের মাত্রা বাড়বে; ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে উপকূল সংলগ্ন এলাকা ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। এর পর বৃহস্পতি ও শুক্রবার নাগাদ দুর্যোগের অভিমুখ ক্রমশ সরবে উত্তরবঙ্গ ও লাগোয়া সিকিমের দিকে, ফলে সেখানেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকছে।
কলকাতায় মূলত আকাশ মেঘলা থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃষ্টির পাশাপাশি হাওয়াতেও থাকবে জোর। উপকূলবর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা।




