নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পেরিয়ে বহুদূরে গিয়েও শেষরক্ষা হলো না। মার্কিন মুলুকের জমকালো শহর লাস ভেগাস থেকে গ্রেপ্তার করা হলো ভারতের অপরাধ জগতের দুই মোস্ট ওয়ান্টেড মুখ হিমাংশু ভাউ এবং নীরজ ফরিদপুরিয়াকে। ২২ অক্টোবর গোপন সূত্রে পাওয়া সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা । গোটা অপারেশনের নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল হরিয়ানা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের। ভারত থেকে পাঠানো নিখুঁত তথ্যের জেরেই মার্কিন পুলিশ এই দু’জনকে জালে তুলতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তাদের ভারতে প্রত্যর্পণের তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
পুলিশের অন্দরমহলে হিমাংশু ভাউ নামটির পরিচিতি মূলত জেলবন্দি ডন লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। দিল্লি ও হরিয়ানা পুলিশের কাছে হিমাংশু দীর্ঘদিন ধরেই ছিল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। খুন, অপহরণ, ব্যবসায়ীদের কাছে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি একাধিক সঙ্গীন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তার নামে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিসও জারি ছিল। তদন্তে জানা যায়, ভারত ছাড়ার জন্য সে জাল নথিপত্রের সাহায্যে ভুয়ো পাসপোর্ট বানিয়েছিল। দিল্লি-এনসিআর এলাকা থেকে দূর বিদেশে বসেও নিজের গ্যাং পরিচালনা করছিল সে।
অন্যদিকে, আরেক ধৃত নীরজ ফরিদপুরিয়ার অপরাধের খতিয়ানও বেশ দীর্ঘ। হরিয়ানার পালওয়াল জেলার বাসিন্দা নীরজের বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা ঝুলছে। ২০১৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও ২০১৯ সালে অদ্ভুতভাবে জামিন পেয়ে যায় সে। জেল থেকে বেরোনোর পরেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দেওয়া হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা বিকাশ চৌধুরীর হত্যাকাণ্ডে নীরজের নাম সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। এরপরই গা-ঢাকা দেয় সে। তদন্তকারীদের দাবি, কানাডায় সক্রিয় বাম্বিহা গ্যাংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের পর আমেরিকায় এসে হিমাংশু ভাউয়ের অপরাধ চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল নীরজ।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ দিল্লির আয়া নগরে জিম ট্রেনার বিজয় কুমার এবং দুগ্ধ ব্যবসায়ী রতন লোহার খুনের নেপথ্যেও এই ভাউ গ্যাংয়ের সক্রিয় ভূমিকা সামনে এসেছে। রতন লোহার হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্যাংয়ের চার শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি-এনসিআর জুড়ে একের পর এক রক্তক্ষয়ী হামলা ও ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে তোলা আদায়ের একাধিক ঘটনার জট এই দু’জনকে জেরা করলেই খুলবে বলে আশাবাদী গোয়েন্দারা। এখন দ্রুত কূটনৈতিক ও আইনি পথ সুগম করে মার্কিন হেফাজত থেকে এই দুই অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য তদন্তকারী দলগুলির।




