দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কি শেষরক্ষা হল না। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার। আদতে হরিয়ানার বাসিন্দা। সেই হিমাংশু ভাউ গ্রেফতার হল সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দিল্লি এবং হরিয়ানায় খুন, খুনের চেষ্টা ও তোলাবাজি-সহ একাধিক অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত হিমাংশু। মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে উত্তর ভারতের অপরাধজগতের এই নাম। ২০২৩ সালেই তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছিল ইন্টারপোল। এবার তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হবে কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারী সংস্থাগুলির।
হিমাংশু ভাউয়ের আসল নাম হিমাংশু রিতোলিয়া। হরিয়ানার রোহতক জেলার বাসিন্দা তিনি। অল্প বয়সেই অপরাধজগতের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২০ সালে কিশোর সংশোধনাগারে থাকার সময় আরও কয়েক জন বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দিল্লি ও হরিয়ানার অপরাধজগতে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দিল্লি-এনসিআর থেকে হরিয়ানা, এমনকি পঞ্জাবেও অপরাধের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। একাধিক খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের টার্গেট করত হিমাংশু ভাউয়ের গ্যাং। ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হত। দাবি না মানলে হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের দাবি, বিদেশে আত্মগোপন করে থাকার সময়ও ভারতের অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন হিমাংশু। হোয়াটসঅ্যাপ কল ও মেসেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, দেশের বাইরে থাকলেও গ্যাংয়ের কার্যকলাপ পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল।
উত্তর ভারতের অপরাধজগতে বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘাত এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াই দীর্ঘদিনের। সেই প্রেক্ষাপটে হিমাংশু ভাউয়ের সঙ্গে গ্যাংস্টার নীরজ ভওয়ানার গোষ্ঠীর যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে পুলিশি সূত্রে। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল হিমাংশুর গ্যাং। তোলাবাজি, গুলি চালানো এবং পরিকল্পিত হামলার একাধিক ঘটনায় এই ধরনের গোষ্ঠীর ভূমিকা খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা।
ভারতে একের পর এক মামলায় নাম জড়ানোর পর হিমাংশুকে খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়। ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করে ইন্টারপোল। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে আটক করার উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা কোনও অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া মেনেই এগোতে হয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে। ফলে আন্তর্জাতিক নোটিস জারি হওয়ার পরেও তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।




