নিউজ ডেস্ক: মা দুর্গা জলে যেতেই বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে এবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সত্যি হলে আসন্ন এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হতে পারে ‘অর্ণব’। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে এর প্রভাবে ওড়িশার বিস্তীর্ণ উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে অতি ভারী দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে ২৫ অক্টোবরের মধ্যেই পুরোপুরি একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে। এরপর সমুদ্রের উষ্ণ জলের সংস্পর্শে এসে শক্তি বাড়িয়ে আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে এটি ‘তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ বা সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ঠিক কোথায় এই ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়বে এবং উপকূলে আঘাত হানার মুহূর্তে ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঠিক কত দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন আবহাওয়াবিদরা। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে গতিপথ মিনিটে মিনিটে ট্র্যাক করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া থেকে ওড়িশার গোপালপুর এই সুদীর্ঘ উপকূলবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালাতে পারে ‘অর্ণব’। ঝড়ের পূর্বাভাস মেলা মাত্রই বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে ওড়িশা রাজ্য প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই পুরী, গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরি এই ছয়টি সংবেদনশীল জেলায় সর্বোচ্চ ‘রেড ওয়ার্নিং’ বা লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে নিচু এলাকাগুলোতে জল জমার আশঙ্কার পাশাপাশি পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা দক্ষিণের জেলাগুলোতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দুর্যোগের মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও জরুরি পরিষেবাগুলোকে। দুর্যোগকবলিত এলাকার সরকারি আধিকারিক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে মাঝসমুদ্রে ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে জলরাশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে তীরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ওপর জারি করা হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছে নবান্ন ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসন।




