নিউজ ডেস্ক জাপানের প্রখ্যাত এবং কাল্ট ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা রিউ মুরাকামি, ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) তাঁর প্রকাশনা সংস্থা 'গেনতোশা’, আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরটি প্রকাশ্যে আনে। যদিও ১৭ অক্টোবর টোকিওতে নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যেই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
তাঁর প্রয়াণ ও সাহিত্যিক জীবন সম্পর্কে মূল তথ্যসমূহ:
মুরাকামির এই মৃত্যুর কারণ ও শেষকৃত্য সম্পর্কে প্রকাশনা সংস্থা বা পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি এবং পরিবারিক সদস্যদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শোকবার্তা, ফুল বা আর্থিক অনুদান গ্রহণ করতে সরাসরি নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
হারুকি মুরাকামির সমসাময়িক রিউও ছিলেন জাপানি সাহিত্য এক পরিচিত নাম। আধুনিক জাপানি সাহিত্যের 'জাদুকর' বলা হতো তাঁকে। যৌনতা, সহিংসতা, মাদকের ব্যবহার এবং বিচ্ছিন্ন যুবসমাজের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে লেখা তাঁর কালজয়ী উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—অলমোস্ট ট্রান্সপারেন্ট ব্লু, কয়েন লকার বেবিজ , ইন দ্য মিসো স্যুপ এবং অডিশন।তিনি সম্মানিত হয়েছিলেন বহু স্বীকৃতি, পুরস্কার ও সম্মানে। ১৯৭৬ সালে মুসাশিনো আর্ট ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রাবস্থায় লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাস অলমোস্ট ট্রান্সপারেন্ট ব্লু-এর জন্য তিনি জাপানের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার 'আকুতাগাওয়া প্রাইজ' লাভ করেন। বইটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫ লক্ষ কপির বেশি বিক্রি হয়।৪০টির বেশি উপন্যাস ও ছোটগল্পের সংকলন লিখেছেন তিনি।
লেখার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। ১৯৯৯ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা তাকাশি মিয়িকে পরিচালনায় পর্দায় আসে। স্ত্রীকে হারানো এক ব্যক্তির নতুন জীবনসঙ্গী খুঁজতে ভুয়া চলচ্চিত্রের অডিশনের আয়োজন এবং পরবর্তী ভয়াবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি স্বাধীন ধারার হরর সিনেমার অন্যতম আলোচিত কাজ হয়ে ওঠে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস অডিশন অবলম্বনে সালে নির্মিত জাপানি হরর চলচ্চিত্রটি বিশ্ব চলচ্চিত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া দীর্ঘ দুই দশক ধরে তিনি 'টিভি টোকিও'-র জনপ্রিয় টক শো ক্যামব্রিয়ান প্যালেস-এর প্রধান সঞ্চালক ছিলেন।
জাপানের আরেক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামির সঙ্গে নামের মিল থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক ডেভিড পিলিং ২০১৩ সালে দুই লেখকের সাহিত্যধারার পার্থক্য তুলে ধরে রিউ মুরাকামির লেখাকে হারুকির তুলনায় বেশি ধারালো ও ক্ষুব্ধ বলে বর্ণনা করেছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা জেনতোশা জানায়, 'একটি যুগের অগ্রদূত হিসেবে যিনি জীবনের দৌড়ে সগর্বে এগিয়ে গিয়েছিলেন, ব্ল্যাক হিউমার ও তীক্ষ্ণ সমাজ পর্যবেক্ষণের কারণে তার সাহিত্যকর্ম বিশ্বজুড়ে লাখো পাঠকের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়।




