পুরুলিয়া: ২১ বছর ধরে লক্ষ্মীপুজোয় সমাজ সচেতনতার বার্তা। গ্রাম বাংলার নারী শিক্ষার থিম তুলে ধরতে বাড়ির ছোট্ট একটি ঘরেই নিখুঁত গ্রাম বাংলাকে ফুটিয়ে তুলেছেন শিক্ষক শঙ্কর মুখার্জী। নারী পুরুষ এক বার্তা দিতে লক্ষ্মীর সাথে পুজো করছেন নারায়ায়নেরও।
দুর্গাপুজো কিংবা কালীপুজোয় বিগ বাজেটের থিমের ছড়াছড়ি থাকলেও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় থিমের ভাবনা এখনও বেশ বিরল। তবে এই বিরল উদ্যোগই গত ২১ বছর ধরে পুরুলিয়া শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ঋষি অরবিন্দ কলোনির বাসিন্দা শিক্ষক শঙ্কর মুখার্জী নিজের শিল্পসত্তার মাধ্যমে বাড়ির ছোট্ট ঘরেই তুলে ধরেছেন নারী শিক্ষা এবং গ্রাম বাংলার থিম।
প্রতিবছর নিজের হাতে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে মণ্ডপের সাজসজ্জা—সবেতেই থাকে তাঁর নিজস্ব শিল্পভাবনা এবং সমাজের প্রতি বিশেষ বার্তা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছরও ব্যতিক্রমী থিমের আয়োজন করেছেন তিনি। এবছর তাঁর লক্ষ্মীপুজোর মূল ভাবনা ‘গ্রামবাংলার নারী শিক্ষা’। এই থিমের মাধ্যমে গ্রামবাংলায় নারীশিক্ষার প্রসার এবং তার গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন শঙ্করবাবু। তাঁর শিল্পসৃষ্টির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার পরিবেশ এবং নারীশিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাতেই তাঁর এই উদ্যোগ।
তবে এবারের থিমে রয়েছে আরও একটি বিশেষ তাৎপর্য। সংসার ও সমাজের প্রকৃত সমৃদ্ধি যে নারী বা পুরুষের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, বরং উভয়ের সম্মিলিত প্রয়াসেই তা পূর্ণতা পায়, সেই ভাবনাও তুলে ধরেছেন তিনি। আর সেই বার্তা দিতেই দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন নারায়ণ।
দীর্ঘ ২১ বছর ধরে নিজের হাতে প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে সমাজসচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নিছক পুজোর আয়োজন নয়, বরং শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে নতুন করে ভাবানোর এক অনন্য উদ্যোগ। শঙ্কর মুখার্জি এই লক্ষ্মীপুজো তাই ভক্তির পাশাপাশি নারীশিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করছে। আগামীকাল কোজাগরী লক্ষ্মীপূজো শনিবার সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিজের থিমকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিক্ষক শঙ্কর মুখার্জী।




