নিউজ ডেস্ক: এক দিকে কিলিয়ান এমবাপে, অন্য দিকে লামিনে ইয়ামাল। এক জন রিয়াল মাদ্রিদের গোলমেশিন, অন্য জন বার্সেলোনার তরুণ মহাতারকা। ফুটবলবিশ্বের নজর এখন এই দুই তারকার দিকে। রবিবার এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। তার ঠিক পরের দিন, সোমবার, ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই তারকাই চাইবেন, এল ক্লাসিকোয় নিজেদের সেরা প্রমাণ করে ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে।
লা লিগার বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য কিছুটা চাপে রিয়াল মাদ্রিদ। ন’টি ম্যাচের পর বার্সেলোনার থেকে ছ’পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা। গত মরসুমের দুই বারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এ বারও দুরন্ত ছন্দে শুরু করেছে। অন্য দিকে, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পিছনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল। ফলে এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে আরও পিছিয়ে পড়তে পারে মাদ্রিদ। তাই এমবাপেদের কাছে রবিবারের ম্যাচ শুধু মর্যাদার লড়াই নয়, লিগের দৌড়ে ঘুরে দাঁড়ানোরও বড়ো সুযোগ।
এমবাপে অবশ্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। চলতি মরসুমে ১২টি ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন ফরাসী অধিনায়ক। রিয়ালের আক্রমণের প্রধান ভরসা তিনিই। দলের পারফরম্যান্সে ওঠাপড়া থাকলেও এমবাপের গোল করার ক্ষমতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁর গতি, বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ঢোকার দক্ষতা এবং গোলের সামনে ঠান্ডা মাথা বার্সেলোনার জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার সঙ্গে এমবাপেই আপাতত রিয়ালকে লিগের শীর্ষ দলগুলির নাগালের মধ্যে রেখেছেন।
অন্য দিকে, ইয়ামালও পিছিয়ে নেই। ১৯ বছর বয়সি এই স্প্যানিশ তারকা লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে চলতি মরসুমে ইতিমধ্যেই ১০টি গোল করেছেন এবং ১০টি গোলে সহায়তা করেছেন। স্পেনের হয়েও আরও চারটি গোল রয়েছে তাঁর। বার্সেলোনার আক্রমণে ইয়ামালের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ডান প্রান্ত থেকে তাঁর ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস এবং বিপক্ষের রক্ষণকে অস্থির করে দেওয়ার ক্ষমতা বার্সেলোনাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
বার্সেলোনা এ মরসুমে একের পর এক ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে। তবে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সাঁ জরমাঁর কাছে ২-৪ গোলে হেরে তাদের অপরাজিত থাকার ধারায় ধাক্কা লাগে। সেই ম্যাচেও গোল করেছিলেন ইয়ামাল। তার আগে রিয়াল বেতিসের বিরুদ্ধে ৫-২ জয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনা এ মরসুমে ইতিমধ্যেই ৫০টি গোল করেছে। রাফিনিয়া একাই করেছেন ১৪টি গোল। ফলে শুধু ইয়ামালকে আটকানো নয়, বার্সেলোনার আক্রমণের একাধিক অস্ত্রকে সামলাতে হবে রিয়ালকে।
রিয়ালের জন্য বড় ধাক্কা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অনুপস্থিতি। লা লিগায় চার ম্যাচের নির্বাসনের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলের এই তারকা। যদিও ভিনিসিয়াসের জায়গায় আক্রমণে গতি যোগ করতে পারেন ১৯ বছর বয়সি ইয়ান দিয়োমান্ডে। রিয়ালের শেষ চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি আক্রমণ গড়ার দায়িত্ব থাকবে আরদা গুলেরের উপরেও। বার্সেলোনার মাঝমাঠে পেদ্রি এবং রদ্রির মতো ফুটবলারদের উপস্থিতি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
এই ম্যাচের আর একটি আকর্ষণ হোসে মোরিনহো। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দ্বিতীয় বার দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্সেলোনার বিরুদ্ধে প্রথম এল ক্লাসিকোয় নামবেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তাঁর প্রথম পর্বে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। এ বারও মোরিনহোর কৌশল এবং বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের সংঘাত নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
ব্যালন ডি’অরের ভোট অবশ্য ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তাই রবিবারের ম্যাচের পারফরম্যান্স পুরস্কারের ফল বদলাবে না। কিন্তু জনমতের লড়াইয়ে এমবাপে ও ইয়ামালের জন্য এই ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেন এবং ৩৯ বছর বয়সি লিওনেল মেসিও আলোচনায় রয়েছেন। তবে এল ক্লাসিকোর মঞ্চে গোল করে দলকে জেতাতে পারলে এমবাপে কিংবা ইয়ামাল - যে কেউই নিজের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারবেন।
রবিবার তাই শুধু বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ নয়, দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকারও পরীক্ষা। এমবাপে কি নিজের গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন? নাকি ইয়ামালের পায়ের জাদুতে ঘরের মাঠে হাসবে বার্সেলোনা? উত্তর মিলবে এল ক্লাসিকোর মহারণেই।




