নিউজ ডেস্ক: 'তুমসা নহি দেখা' থেকে ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, শম্মি কাপুর হিন্দি চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছিলেন অতুলনীয় প্রাণশক্তি, রোমান্স ও স্টাইল। মিউজিক্যাল রোমান্স থেকে শুরু করে দারুণ উপভোগ্য সব চলচ্চিত্র—তাঁর সিনেমাগুলো যেন সেই সময়ের পরিবর্তনশীল বলিউডেরই প্রতিচ্ছবি। তাঁর অভিনীত এমন সাতটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রকে আবারও ফিরে দেখা যাক, যা আজও তাঁর অবিস্মরণীয় উপস্থিতিকেই তুলে ধরে।
শাম্মি কাপুরের চিরসবুজ আকর্ষণ
শাম্মি কাপুর ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা, যিনি তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয়, রোমান্টিক চরিত্র এবং নিজস্ব ঘরানার নাচের ভঙ্গির জন্য সুপরিচিত ছিলেন। চমৎকার সব মিউজিক্যাল রোমান্স থেকে শুরু করে রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তায় ভরপুর চলচ্চিত্র—সবক্ষেত্রেই তিনি এমন এক পর্দা-ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলেছিলেন যা ছিল একান্তই তাঁর নিজস্ব। তাঁর গান, মুখের অভিব্যক্তি এবং সহজাত সম্মোহনী ক্ষমতা তাঁকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে, শাম্মি কাপুরের এমন সাতটি চলচ্চিত্রের দিকে ফিরে তাকানো যাক, যা এই অভিনেতার অনন্য আবেদন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানকে তুলে ধরে।
তুমসা নহি দেখা (১৯৫৭)
শাম্মী কাপুরের ‘তুমসা নহি দেখা’ তাঁর তারকা হয়ে ওঠার যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিহ্নিত করে। আমিতার বিপরীতে অভিনীত এই রোমান্টিক মিউজিক্যাল চলচ্চিত্রে শাম্মী কাপুরকে এক মনোমুগ্ধকর চরিত্রে দেখা যায়, যা তাঁর তারুণ্যদীপ্ত প্রাণশক্তিকে ফুটিয়ে তুলেছিল। ছবিটির অবিস্মরণীয় গান এবং রোমান্টিক মুহূর্তগুলো তাঁর এমন এক পর্দা-ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল, যা পরবর্তীকালে দর্শকরা দারুণভাবে ভালোবেসে ফেলেছিল।
দিল দেকে দেখো (১৯৫৯)
নাসির হোসেন পরিচালিত রোমান্টিক মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র 'দিল দেকে দেখো'-তে আশা পারেখের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন শম্মি কাপুর। রোমান্স, কমেডি এবং শ্রুতিমধুর গানের সমন্বয়ে তৈরি এই ছবিটি শম্মি কাপুরকে তাঁর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার দারুণ সুযোগ করে দিয়েছিল। ছবিটির সাফল্য তাঁকে একজন শীর্ষস্থানীয় রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছিল।
জংলি (১৯৬১)
‘জংলি’ শম্মি কাপুরের অন্যতম আইকনিক বা স্মরণীয় চলচ্চিত্র। সায়রা বানুর বিপরীতে অভিনীত এই ছবিতে তিনি এক ধনী ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেন, যার কঠোর ব্যক্তিত্ব প্রেমে পড়ার পর বদলে যায়। তাঁর এই চমৎকার রূপান্তর, প্রাণবন্ত নাচ এবং ‘ইয়াহু! চাহে কোই মুঝে জংলি কহে’ গানটি ছবিটিকে তাঁর কর্মজীবনের একটি মাইলফলক করে তুলেছে।
প্রফেসর (১৯৬২)
'প্রফেসর' চলচ্চিত্রে শাম্মী কাপুর এমন এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে বয়স্ক গৃহশিক্ষকের ছদ্মবেশ ধারণ করে। হাস্যরসাত্মক এই চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেছেন কল্পনা ও ললিতা পাওয়ার। কাপুর এতে কৌতুক, রোমান্স এবং ছদ্মবেশজনিত বিভ্রান্তির মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। তাঁর এই উপভোগ্য অভিনয় প্রমাণ করে যে, কেবল ভবঘুরে রোমান্টিক নায়কের গণ্ডিতেই তিনি সীমাবদ্ধ নন, বরং তার বাইরেও অনেক কিছু করার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
ব্রহ্মচারী (১৯৬৮)
'ব্রহ্মচারী' চলচ্চিত্রে শম্মি কাপুর এমন এক অবিবাহিত ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি অনাথ শিশুদের জন্য একটি আশ্রম পরিচালনা করেন এবং একই সঙ্গে নিজের জীবনের নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেন। রাজশ্রী অভিনীত এবং চমৎকার সব গানে সমৃদ্ধ এই চলচ্চিত্রটিতে কমেডি, রোমান্স ও আবেগের এক দারুণ ভারসাম্য ছিল। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য শম্মি কাপুর শ্রেষ্ঠ অভিনেতার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন, যা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে আরও একটি মাইলফলক হয়ে ওঠে।
কাশ্মীর কি কলি (১৯৬৪)
শর্মিলা ঠাকুরের হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেকের সাক্ষী এই ছবিটি তার মনোরম চিত্রায়ন, রোমান্টিক কাহিনি এবং চিরসবুজ সংগীতের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। এতে শম্মি কাপুর এক প্রাণোচ্ছ্বল তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে এক সুন্দরী ফুল বিক্রেতার প্রেমে পড়ে যায়। “দিওয়ানা হুয়া বাদল”-এর মতো গানগুলো আজও এই চলচ্চিত্রটিকে ধ্রুপদী বলিউড ভক্তদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে রেখেছে।
অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস (১৯৬৭)
‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’ চলচ্চিত্রে শম্মি কাপুরের রোমান্টিক আবেদনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন শর্মিলা ঠাকুর। প্যারিসের জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে রোমান্স, সাসপেন্স এবং দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটেছে। ছবিটির অবিস্মরণীয় সংগীত এবং শম্মি কাপুরের সম্মোহনী অভিনয় একে তাঁর রোমান্টিক ধারার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম মাইলফলক করে তুলেছে।




