নিউজ ডেস্ক:পরনে বিয়ের লেহেঙ্গা। রাস্তার দিয়ে ছুটছেন নববধূ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই ভিডিও। না, তিনি বিয়ের আসর থেকে পালাননি। তিনি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চেয়েছেন এলাকার মানুষের কাছে। নিজের গ্রামের রাস্তার দুর্দশা চিত্র প্রশাসনের নজরে আনতে চেয়েছেন ।উত্তরাখণ্ডের প্রত্যন্ত উন্দাওয়া গ্রামের বাসিন্দারা তার এই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে ।
ভোট আসে , ভোট যায়। তবুও রাস্তার অবস্থা বেহালই থেকে যায় । উত্তরাখণ্ডের উন্দাওয়া গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্দশা শেষ হয় না। রাস্তার বেহাল দশা। রোজকার যাতায়াত থেকে শুরু করে বিয়ে কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। পাহাড়ি দুর্গম পথ পেরিয়ে নিজেদের গন্তব্য পৌঁছতে হয় গ্রামবাসীদের। রোজকার সমস্যার কথাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিলেন নববধূ। গাড়িতে নয়, বরং বিয়ের ভারী পোশাক পরেই প্রায় ১৮ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরোলেন নববধূ। উত্তরাখণ্ডের চাকরাতার এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পাহাড়ি এলাকার রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে।
বিয়ের পর বুলহার গ্রাম থেকে উন্দাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিলা। কিন্তু গাড়িতে যতদূর যাওয়া সম্ভব, ততদূর যাওয়ার পরও বাকি ছিল দীর্ঘ পথ। তাঁর শ্বশুরবাড়ির গ্রামে পৌঁছনোর কোনও পাকা রাস্তা নেই! লোকখান্ডি থেকে উন্দাওয়া যাওয়ার পথে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দুর্গম পথ পেরোতে হয় নববধূকে। পরনে ভারী লেহঙ্গা। সেই সব পরেই হাঁটেন তিনি।
নববধূর সাজে শর্মিলার ভিডিওটি ক্যামেরাবন্দি করেন স্থানীয়রা। সেই ভিডিওতেই দেখা যায়, বিয়ের পোশাক পরেই অসমতল পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে চলেছেন কনে। তবে শুধু নিজের অসুবিধার কথা বলেই থেমে থাকেননি নববধূ। ভিডিও সরাসরি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আবেদন করে জানিয়েছেন যাতে তাঁদের গ্রামের জন্য একটা পাকা রাস্তা করা হয়। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতিতে কাউকে না পড়তে হয়।
শর্মিলার এই ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায় । ভারতের বহু গ্রামেরই রাস্তা দুর্গম। রাস্তা নেই বললেই চলে। রোজই কঠিন পরিস্থিতিতে চলে যাতায়াত। চিকিৎসা করাতে রোগী নিয়ে বাইরে যেতেও সমস্যায় পড়তে হয়। শর্মিলার মতো মেয়ের এই ভাইরাল ভিডিও, প্রশাসনের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেবে, আশাবাদী ওই গ্রামের বাসিন্দারা।




