ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাঙ্কের তথ্য সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা কতটা মজবুত, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সাইবার অপরাধীদের নিশানায় সাধারণ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য চলে গেলে তার পরিণতি কতটা গুরুতর হতে পারে, সাম্প্রতিক একটি ঘটনা ফের সেই আশঙ্কা বাড়িয়ে দিল। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাঙ্ককে ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সাইবার হামলার জেরে যেসব গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে তাঁদের ইমেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পৃথকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যাঙ্কের তরফে এই তথ্য জানানো হয়। ব্যাঙ্কের দাবি, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স এবং জমা অর্থ সুরক্ষিত রয়েছে।
সূত্রে খবর, বুধবার সাইবার হামলার ঘটনায় ডার্ক ওয়েবে প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এরমধ্যে ৩৮৯৭ টি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব এমন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডিজিটাল অধিকার সংস্থা ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন বিষয়টি সামনে আনার পর এস বি আই এর তরফে এই বিবৃতি দেওয়া হয়। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সরাসরি সতর্ক করার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপরই ব্যাংকের তরফে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানানো হয়।
শুক্রবারের বিবৃতিতে এসবিআই গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যাংকের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ওটিপি, পিন কিংবা পাসওয়ার্ড অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি অপরিচিত নম্বর থেকে আশা ফোন, সন্দেহজনক মেসেজ এবং ইমেইল থেকে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগেও দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। সুত্রে খবর, গত জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফ বরোদার গ্রাহকদের তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ নথি ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছিল। অন্যদিকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বারবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল লেনদেনের যুগে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা ব্যাঙ্ক গুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাই সাইবার হামলা প্রতিরোধের পাশাপাশি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটলে দ্রুত গ্রাহকদের সতর্ক করা এবং তাঁদের অর্থ ও পরিচয় সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




