নিউজ ডেস্ক: এবার চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহত শুভম সোনকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বাগমারিতে শুভমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী চিন্তাভাবনা রয়েছে, তাও শোনেন তিনি। শুভমের ভাই সুজনের কর্মসংস্থানের বিষয়টি তাঁর সামনে তুলে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিপুল ভিড়ের জেরে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রাণ হারান একাধিক মানুষ। তাঁদেরই একজন শুভম সোনকার। বাগমারির ছোট একটি ফ্ল্যাটে থাকে সোনকার পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়ে আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সোনকার পরিবারে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ টাকা এবং জেলাশাসকের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গেও তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার দিন মাইকে ঘোষণা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। উৎসব শুরু হতে না হতেই নিভে গিয়েছে আলো। মৃতদের মধ্যে সাত বছরের এক শিশু-সহ একাধিক কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। কাছের মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবারগুলি। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবমী ও দশমীর দিন নিহতদের বাড়ি বাড়ি যাবেন বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো মঙ্গলবার অর্থাৎ নবমীর দিন থেকে জেলায় জেলায় গিয়ে প্রত্যেক পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের বীরপুরে যান। চোরবাগান বিপর্যয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৪ বছরের সন্দীপ বেজ ও তাঁর মা ৩৭-এর টগর বেজের। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তিনি। তুলে দেন আর্থিক সাহায্যও। তারপর একে একে প্রত্যেক নিহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।




