নিউজ ডেস্ক : গন্তব্য ছিল ভিন রাজ্য। সেই লক্ষ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি ও প্রায় সম্পূর্ণ। কিন্তু, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনোর আগেই বাধা হয়ে দাঁড়ালো পুলিশ। একটি ফেরিঘাটে আচমকা অভিযানের পর সামনে এলো আন্তসীমান্তে যাতায়াতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিভাবে তাঁরা সেখানে পৌঁছলেন? কারা সাহায্য করেছিল তাঁদের? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি অসমের ধুবড়ি জেলার যোগমায়া ফেরি ঘাটের। শুক্রবার অসমের ধুবড়িতে যোগমায়া ফেরি ঘাটে অভিযান চালিয়ে কুড়িজনেরও বেশি বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট ৩৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক চেন্নাই যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে অসমে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কি উদ্দেশ্যে তাঁরা চেন্নাই যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, তাঁদের সঙ্গে থাকা নথিপত্র এবং যাতায়াতের রুট সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার সঙ্গে দালাল চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তদন্ত। তদন্তকারীদের অনুমান, সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশে সাহায্য করার জন্য দালালরা জন প্রতি ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছিল। এই চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কারা এই টাকা সংগ্রহ করছিল এবং কিভাবে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে একাধিক ব্যক্তির যোগসূত্র থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন না আধিকারিকরা। তাঁদের ভারতে প্রবেশের সময়, সম্ভাব্য সহযোগী, এবং পরবর্তী যাত্রাপথের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ৩৮ জনের দলের বাকি সদস্যদের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কেউ এখনও অসমের অন্য এলাকায় লুকিয়ে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় কোনও বড়সড় দালালচক্রের হদিস মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।




