উত্তরাখণ্ড: তীর্থযাত্রা সেরে ঘরে ফেরা হল না! বদ্রীনাথ ধাম থেকে পাঁচ যাত্রীকে নিয়ে দেহরাদূনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল হেলিকপ্টার। কিন্তু মাঝপথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার জোশীমঠের কাছে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার খবর সামনে আসে। শুক্রবারের এই দুর্ঘটনায় পাইলট-সহ ছ’জনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে পরবর্তী রিপোর্টে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন সংস্থার হেলিকপ্টারটি শুক্রবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিট নাগাদ বদ্রীনাথ থেকে দেহরাদূনের সহস্রধারার উদ্দেশে উড়েছিল। বিমানটির পরিচিতি নম্বর VT-HCX। জোশীমঠ উপত্যকার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় তার ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও। ফলে ঠিক কোথায় সেটি রয়েছে, তা বুঝতে পারছিলেন না বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী আধিকারিকেরা।
চেইন গ্রামের কাছে মিলল দুর্ঘটনার সূত্র
হেলিকপ্টারটির খোঁজ না মেলায় দ্রুত তল্লাশি অভিযান শুরু করে চামোলি জেলা প্রশাসন। আকাশপথেও তল্লাশির জন্য অন্য একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। এর মধ্যেই জোশীমঠের কাছে চেইন গ্রামের দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। প্রশাসনের সন্দেহ, ওই এলাকাতেই ভেঙে পড়েছে নিখোঁজ হেলিকপ্টারটি। পরে দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন মুখ্যমন্ত্রী ধামী।
উদ্ধারকাজে নামানো হয় জেলা প্রশাসন, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর দলকে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হয়। ওই সময় এলাকায় বৃষ্টি ও তুষারপাতের পরিস্থিতিও ছিল। ফলে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনো এবং উদ্ধারকাজ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
পাইলট-সহ ছ’জনের পরিচয় প্রকাশ
হেলিকপ্টারে চালক-সহ মোট ছ’জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন যাত্রী এবং এক জন পাইলট। পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন হিমাংশু। যাত্রীদের পরিচয় প্রথাপা, অরুণ, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে এবং এইচ এস নটরাজ বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী রিপোর্টে ছ’জনেরই মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ধামী সমাজমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে বলেন, চেইন গ্রামের কাছে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার খবর পাওয়ার পরই জেলা প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ এবং এসডিআরএফ যৌথ ভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। গোটা পরিস্থিতির উপর তিনি নিজে নজর রাখছেন বলেও জানান।
সংস্থার সমস্ত হেলিকপ্টার বসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশনের সমস্ত হেলিকপ্টারের উড়ান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরাখণ্ডের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ জানতে আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং উড়ান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত এক দশকে রাজ্যে অন্তত ১২টি হেলিকপ্টার-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের বিপত্তির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি ঘটনায় প্রাণহানির খবর রয়েছে। গত বছরের জুন মাসে কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশীর দিকে যাওয়ার পথে একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বার বার এমন দুর্ঘটনা পাহাড়ি তীর্থপথে হেলিকপ্টার পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে বৃষ্টি, তুষারপাত, ঘন মেঘ এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে উড়ান চালানোর সিদ্ধান্ত কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বদ্রীনাথ থেকে ফেরার পথে জোশীমঠের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হল।




