নয়াদিল্লি: পার্সেল পাঠাতে বা আনতে আর রেলস্টেশনের পার্সেল অফিসে ছোটাছুটি করতে হবে না। বাড়িতে বসেই বুকিং, বাড়ি থেকেই জিনিসপত্র সংগ্রহ এবং গন্তব্যে প্রাপকের দরজায় পৌঁছে দেওয়া— এমনই নতুন পরিষেবা চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। ‘ঘর সে ঘর তক’ নামের এই পরিষেবায় রেলপথে পার্সেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি লজিস্টিক সংস্থাগুলি। প্রাথমিক ভাবে দেশের আটটি বড় শহরে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতাও। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী এবং অনলাইন বিক্রেতা— সকলেরই পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়তে পারে।
নতুন ব্যবস্থার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘রেল পার্সেল অ্যাপ’। এই অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বাড়িতে বসেই পার্সেল বুক করতে পারবেন। এত দিন ট্রেনে পার্সেল পাঠাতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই নিজেকেই রেলস্টেশনের পার্সেল অফিসে গিয়ে জিনিসপত্র জমা দিতে হত। নতুন পরিষেবায় সেই ঝক্কি অনেকটাই কমবে। বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্টেশনে পৌঁছে দেবে সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক সংস্থা। রেল সেই পার্সেল ট্রেনে করে গন্তব্য শহরে নিয়ে যাবে। সেখানে আবার অংশীদার সংস্থার কর্মীরা পার্সেলটি প্রাপকের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন।
কলকাতা-সহ কোন আট শহরে মিলবে পরিষেবা?
প্রাথমিক পর্যায়ে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং পুনেতে এই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আট শহরে পরিষেবাটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কাজের অগ্রগতি এবং পরিকাঠামোর প্রস্তুতি অনুযায়ী দেশের অন্য শহরেও এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে।
এই পরিষেবায় রেলের ভূমিকা হবে মূলত এক শহর থেকে অন্য শহরে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া। আর বাড়ি থেকে সংগ্রহ এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে রেলের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি লজিস্টিক সংস্থাগুলির হাতে। অর্থাৎ, গোটা ব্যবস্থায় রেল ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হবে এক ধরনের দরজায়-দরজায় পার্সেল পরিবহণ পরিষেবা।
১৫ দিন আগে বুকিং, ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগেও সুযোগ
নতুন ব্যবস্থায় পার্সেল পাঠানোর জন্য আগাম বুকিংয়ের সুযোগও থাকছে। নির্দিষ্ট ট্রেন ছাড়ার ১৫ দিন আগে থেকেই বুকিং করা যাবে। আবার ট্রেন ছাড়ার এক দিন আগেও বুকিংয়ের সুযোগ থাকবে। বুকিং পাওয়ার পরে লজিস্টিক সংস্থার কর্মীরা গ্রাহকের বাড়ি বা নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে পার্সেল সংগ্রহ করবেন। নির্ধারিত ট্রেন ছাড়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে পার্সেলটি রেলকর্মীদের হাতে তুলে দিতে হবে। ফলে বাড়ি থেকে সংগ্রহ, স্টেশনে পৌঁছনো এবং ট্রেনে তোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে।
অ্যাপেই বুকিং, পেমেন্ট থেকে পার্সেলের অবস্থান জানা
‘রেল পার্সেল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে শুধু বুকিং নয়, অনলাইন পেমেন্ট এবং পার্সেলের গতিবিধির উপর নজর রাখার ব্যবস্থাও থাকবে। প্রতিটি বুকিংয়ের জন্য দেওয়া হবে ১০ সংখ্যার একটি ‘প্রোগ্রেসিভ রেফারেন্স রেকর্ড’ বা পিআরআর নম্বর। সেই নম্বর ব্যবহার করে পার্সেল কোথায় রয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন গ্রাহক। এ ছাড়াও ডিজিটাল জিএসটি চালান এবং লাইভ ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা থাকবে। পার্সেল প্রাপকের হাতে পৌঁছনোর সময় নিরাপত্তার জন্য ওটিপি যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অনলাইনে ইউপিআই, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড অথবা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টাকা মেটানো যাবে।
বুকিং বাতিল করলে কত টাকা ফেরত?
বুকিং করার পরে পার্সেল সংগ্রহের আগেই যদি গ্রাহক তা বাতিল করেন, তা হলে রেলের পরিবহণ খরচ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। তবে তার থেকে ১০ টাকা ক্লার্কেজ চার্জ কেটে নেওয়া হবে। অন্য দিকে, বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য লজিস্টিক সংস্থাকে যে টাকা দেওয়া হবে, তা ফেরত পাওয়া যাবে কি না, নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব নিয়মের উপর। রেলের এই উদ্যোগে বিশেষ ভাবে উপকৃত হতে পারেন ছোট ব্যবসায়ী, অনলাইন বিক্রেতা এবং নিয়মিত এক শহর থেকে অন্য শহরে জিনিসপত্র পাঠান এমন মানুষ।
রেলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক সহজে পার্সেল পরিবহণের সুযোগ তৈরি করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— আট শহরে পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও সর্বত্র বুকিং শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট দিন এখনও জানানো হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই কার্যকর হওয়ার সময়সূচি জানানো হবে। ফলে কলকাতার বাসিন্দাদেরও আপাতত আনুষ্ঠানিক সূচির অপেক্ষা করতে হবে।




