নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত ও স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালী আবারও বিপজ্জনক রণক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে। গত দু’দিনে পরপর দুটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। ওমান উপকূলের অদূরে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে ভারতীয় নাবিকদের জীবন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। হামলার শিকার হওয়া দুটি জাহাজে মোট ২৯ জন ভারতীয় নাগরিক কর্মরত ছিলেন। তবে স্বস্তির খবর, সকলেই অক্ষত রয়েছেন।
নৌ-নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, ৩০ অক্টোবর পানামার পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি লুইস ১’-এ অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। একটি ছোট নৌকায় চেপে এসে ট্যাঙ্কারের গায়ে গোপনে দুটি লিম্পেট মাইন আটকে দেয় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। মাইন বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই জাহাজের ইঞ্জিন রুমে বিধ্বংসী আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে ট্যাঙ্কারটি বিকল হয়ে পড়ে। ট্যাঙ্কারে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। নাবিকদের উপস্থিত বুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় বা তেলের বিস্তার ঘটার আগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয় এবং জাহাজটি পরে পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
ব্রিটেনের সামরিক নজরদারি সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এই হামলা সংঘটিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই প্রণালীতে লিম্পেট মাইনের সফল বিস্ফোরণের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে সেপ্টেম্বরেও একই ধরনের চেষ্টা হয়েছিল, তবে সেবার প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে মাইন ফাটেনি। এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বিশালাকার ক্রুড ক্যারিয়ার ‘এমটি আরজানাহ’-কে লক্ষ্য করে প্রজেক্টাইল ছোঁড়া হয়। সেই জাহাজে দুজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
পরপর দুটি হামলার কথা নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সমাজমাধ্যমে জানান, ভারত সরকার গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তিনি বলেন, “উভয় জাহাজে থাকা ২৯ জন ভারতীয়ই সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখা হচ্ছে।”
গ্রিসভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থা মারিস্কস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, লিম্পেট মাইন অত্যন্ত সস্তা ও সহজে ব্যবহারযোগ্য। সংকীর্ণ এই জলপথে একটি সাধারণ স্পিডবোট ব্যবহার করে চলন্ত বাণিজ্যিক জাহাজে মাইন সেঁটে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তায় বিরাট ফাঁকফোকড় তৈরি করেছে। কারা এই নাশকতার পিছনে রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে হরমুজ প্রণালীতে এমন চোরাগোপ্তা হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আবারও গভীর সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিলো বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।




