নিউজ ডেস্ক : ডিজিটাল প্রতারণার জালে আটকে সাধারণ মানুষ হারাচ্ছেন সারা জীবনের সঞ্চয়। কখনও পুলিশ, কখনও সিবিআই বা কখনও অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভিডিও কলে ভয় দেখানো হচ্ছে। এরপর গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। দেশজুড়ে এমন প্রতারণার বাড়বাড়ন্তে এবার ব্যাংক গুলির দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে (RBI) কড়া বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণে গ্রাহক প্রতারণার শিকার হলে ক্ষতিপূরণের দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপর চাপানো উচিত। এমন ক্ষেত্রে প্রতারিত ব্যক্তিকে তাঁর খোয়া যাওয়া অর্থের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেছে আদালত। তবে, এটি এখনও চূড়ান্ত নির্দেশ নয় RBI কে দেওয়া আদালতের প্রস্তাব ও পর্যবেক্ষণ।
শুনানিতে আদালতে জানায়, কোনও গ্রাহকের সাধারণ লেনদেনের ধরন থেকে হঠাৎ বড়সড় অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। সন্দেহজনক লেনদেন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া, পুলিশকে দ্রুত খবর দেওয়া এবং গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে লেনদেনের সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছে আদালত।
আদালতে জমা দেওয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ইন্ডিয়া সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (14C) তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ডিজিটাল প্রতারণায় প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ডিজিটাল অ্যারেস্ট সংক্রান্ত ২১,৯২৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতারণার পরিমাণ ৬৪৭ কোটি টাকারও বেশি।
এদিন whatsapp এর মতো ডিজিটাল প্লাটফর্ম গুলির ভূমিকাও খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা সন্দেহজনক অডিও ও ভিডিও কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা বা 'কিল সুইচ' চালু করা যায় কি না, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। পাশাপাশি, RBI এর প্রস্তাবিত KYC সংশোধনী নির্দেশিকা ২০২৬ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত নির্দেশিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে ব্যাংক ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোই এখন সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। তবে, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত প্রস্তাব কার্যকর করতে RBI কি পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।




