নিউজ ডেস্ক: ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বন্যা! তার জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ারের সংকোশ নদী সংলগ্ন নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। শুক্রবার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানের শিনটাফু লেক ফেটে যায়। তখন হঠাৎই জল প্রচুর পরিমাণ বেরিয়ে আসে। সাইরেন বাজিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। জল দ্রুত গতিতে নেমে আসছে নীচের দিকে। সেই জলধারা ক্রমশ সঙ্কোশ নদীর দিকে এগোচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং অসমের ধুবড়ি জেলাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভুটানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গাসা তসাচু হট স্প্রিংয়ের একাংশ ইতিমধ্যেই জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগাম সতর্কতা জারি করে এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই।
এর প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং অসমের ধুবরি জেলায়। ভারত সরকারের তরফে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে জানানো হয়েছে, ভুটানের পুনাতসাংছু নদীর উজানে আকস্মিক জলস্ফীতির কারণে সংকোশ নদীতে জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে। প্রাথমিক সতর্কবার্তায় ভারত-ভুটান সীমান্তে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার জল পৌঁছনোর আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে স্থানীয় স্কুল ও ত্রাণশিবিরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে শুকনো খাবার, পানীয় জল, শিশুদের খাবার এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানিয়েছেন, ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রতি মুহূর্তে জলস্তরের পরিস্থিতির খবর নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ও বানারহাট-সহ সংকোশ নদী সংলগ্ন এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মাইকিং করে বাসিন্দাদের সাবধান করা হচ্ছে। সিভিল ডিফেন্স এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে শুক্রবার পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সংকোশ নদীর জলস্তর কিছুটা নেমেছে। এখনও পর্যন্ত বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় রাতের বেলা ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন বাসিন্দা বাড়িতেও ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ভুটানের পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে বৃষ্টি হলে নদীর জলস্তর ফের বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকি এড়াতে নজরদারি জারি রেখেছে দুই জেলার প্রশাসন।




