নিউজ ডেস্ক: ফের জেগে উঠেছে ফিলিপিন্সের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মায়ন। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে প্রায় ৩হাজার উঁচুতে উঠতে দেখা যায় কালো ছাইয়ের বিশাল স্তম্ভ। প্রায় ছয় মিনিট ধরে চলে এই অগ্ন্যুৎপাত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে ফিলিপিন্সের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পনবিদ্যা সংস্থা (PHIVOLCS)। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের পর ধীরে ধীরে দক্ষিণ-পশ্চিমে সরে যায় ছাইয়ের বিশাল স্তম্ভ। আশপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও ছাই ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনও পর্যন্ত স্থানীয় শহর ও গ্রামগুলিতে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
https://x.com/thetatvaindia/status/2116080162248798221?a=qtIyTiYB9_L_8B38zg8&s=19
আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাউন্ট মায়ন এখন অগ্ন্যুতপাতর নতুন পর্যায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লাভা প্রবাহ এবং পাইরোক্লাস্টিক ডেনসিটি কারেন্টস বা অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাস, ছাই ও পাথরের দ্রুতগতির স্রোত তৈরি হতে পারে। এই ধরনের স্রোত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির উপরের ও মাঝের ঢালু এলাকায় বিপদের আশঙ্কা বেশি।
আগ্নেয়গিরি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের
দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে প্রশাসন। পাশাপাশি বিমানগুলিকেও মাউন্ট মায়নের কাছাকাছি দিয়ে উড়তে নিষেধ করা হয়েছে। মাউন্ট মায়ন ফিলিপিন্সের একটি পরিচিত আগ্নেয়গিরি। যার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ২,৪৬২ মিটার। রাজধানী ম্যানিলা থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি তার প্রায় নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির জন্য পরিচিত।
২০২৩ সালের জুন মাসে মায়নের অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কায় ওই এলাকার প্রায় ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরানো হয়েছিল।ফিলিপিন্স প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অফ ফায়ার' এর মধ্যে অবস্থিত। সেকারণে, ফিলিপিন্সে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা নিয়মিত দেখা যায়। ১৯৯১ সালে মাউন্ট পিনাটুবোর ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ৮০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন করে মায়নের অগ্ন্যুৎপাত ঘিরে তাই সতর্ক প্রশাসন।




