নিউজ ডেস্ক: বিমানযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে ভারতে। জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামের জেরে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো। সেই চাপ সামাল দিতে বিমান ভাড়াও বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে সংস্থাটি। ফলে আগামী দিনে ইন্ডিগোর বিমানে যাতায়াত করতে যাত্রীদের আরও বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে বড়সড় লোকসানের মুখে পড়েছে ইন্ডিগো। সংস্থার ত্রৈমাসিক ক্ষতির পরিমাণ ১,৮৭৯ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার সিইও উইলি ওয়ালশ ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিচালন খরচ সামাল দিতে বিমান ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। মূলত এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF-এর মূল্যবৃদ্ধিই বিমান সংস্থাগুলির খরচ বাড়ার অন্যতম কারণ। জ্বালানির খরচের পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরাসরি তার প্রভাব পড়বে সাধারণ বিমানযাত্রীদের উপর। তবে কবে থেকে এবং কতটা ভাড়া বাড়ানো হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি সাংবাদিক বৈঠকে বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর সিইও উইলি ওয়ালশ বলেন,'জ্বালানির খরচ যে হারে বেড়েছে, তা সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই। আমরা ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখতে চাই। ইন্ডিগো বাজারে যে স্বল্পমূল্যের ভাড়া দিতে পেরেছে, তা ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করেছে।' তিনি আরও বলেন, 'ইন্ডিগো দূরপাল্লার ফ্লাইটে যাত্রী পাঠানোর জন্য তার অভ্যন্তরীণ মডেলের সঙ্গে আপস না করে, বরং আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রসারণের পাশাপাশি তার স্বল্প খরচের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে সুরক্ষিত রাখবে।'
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালন খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই যায় বিমানের জ্বালানিতে। ফলে জ্বালানির দামে সামান্য ওঠানামাও বিমান সংস্থাগুলির ওপর বড় আঘাত হানে এবং শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের পকেট থেকেই সেই বাড়তি টাকা খসাতে হয়। বিমানের জ্বালানির মূল্যের টানা বৃদ্ধির জেরে ইতিমধ্যেই ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক রুটে ফুয়েল চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছে এই সংস্থা।




