হরমুজ: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আঁচ এ বার আরও গভীর হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীতে। ২৭ জন ভারতীয় নাবিক-সহ একটি তেলের ট্যাঙ্কারে লিমপেট মাইন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। স্বস্তির খবর, ওই ২৭ জন ভারতীয়-সহ জাহাজের সমস্ত নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন। কারও কোনও আঘাত লাগেনি।
হামলার মুখে পড়া জাহাজটির নাম এমটি লুইস ১। পানামার পতাকাবাহী এই তেলের ট্যাঙ্কারটি শুক্রবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় নিশানা হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূত্রের দাবি, একটি ছোট নৌকা থেকে জাহাজটির কাছে গিয়ে গায়ে দু’টি লিমপেট মাইন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেই বিস্ফোরক ফেটে আগুন ধরে যায় ইঞ্জিন রুমে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের খাসাব শহরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরে ঘটেছে এই ঘটনা। আগুন নেভানোর পর ফের যাত্রা শুরু করেছে ট্যাঙ্কারটি।
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, ওই জাহাজে থাকা ২৭ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ। তাঁদের কারও কোনও চোট লাগেনি। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্র। তবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পরপর দু’দিনে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিক থাকা দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনা।
২৯ অক্টোবর লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বিশালাকার তেলের ট্যাঙ্কার এমটি আরজানাহ-তে প্রজেক্টাইল হামলা হয়। ওই জাহাজে ছিলেন দু’জন ভারতীয়। পরের দিনই হামলার মুখে পড়ে এমটি লুইস ১। দু’টি জাহাজ মিলিয়ে মোট ২৯ জন ভারতীয় নাবিক আক্রান্ত জাহাজে ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যেকেই নিরাপদে রয়েছেন। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। লিমপেট মাইন হল এক ধরনের ছোট আকারের নৌ-বিস্ফোরক, যা সাধারণত চুম্বক বা বিশেষ সংযুক্তির সাহায্যে জাহাজের গায়ে আটকে দেওয়া হয়। ছোট নৌকা ব্যবহার করে চলন্ত জাহাজের কাছে পৌঁছে এই বিস্ফোরক লাগানো সম্ভব। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম প্রযুক্তিনির্ভর এই বিস্ফোরক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। পারস্য উপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। ফলে এই অঞ্চলে জাহাজে হামলা বাড়লে শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।




