নিউজ ডেস্ক: কলকাতা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬: বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে হ্যালোইন উৎসব। তবে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির এই বিশেষ দিনটির ছোঁয়া আরও একদিন আগেই এসে লেগেছে তিলোত্তমার বুকে। গতকাল, ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই কলকাতার রাজপথ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো মেতে উঠেছিল এক ভূতুড়ে উৎসবে। নন্দন ও রবীন্দ্র সদন চত্বরে আয়োজিত হ্যালোইন স্ট্রিট কার্নিভালে শহরের তরুণী ও মডেলদের বিশেষ ভৌতিক পোশাক ও নাটকীয় মেকআপে জমকালো উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবার মিলিত হলো পাশ্চাত্য ও বাঙালি ভূতেরা। কলকাতার স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘স্পন্দন’-এর উদ্যোগে এ বছর হ্যালোইন স্ট্রিট শোর ষষ্ঠ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে গ্লোবাল হ্যালোইন সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালি লোকগাথার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ দেখা গেছে। সাধারণত হ্যালোইনে পশ্চিমা ধাঁচের জম্বি, ভ্যাম্পায়ার কিংবা ডাইনির রূপ বেশি দেখা গেলেও, কলকাতার মেয়েরা এদিন নিজেদের সাজিয়েছিলেন খাঁটি বাঙালি ভূত যেমন— ‘পেত্নী’ ও ‘শাকচুন্নি’র লুকে। সাদা শাড়ি, এলো চুল এবং চোখের নিচে কালচে ডার্ক সার্কেলের সঙ্গে মানানসই ভৌতিক মেকআপে তরুণীদের এই রূপ দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ।
বাসে-রাস্তায় ভূতের আতঙ্ক ও মজায় কোলকাতার হ্যালোইন হয়ে উঠেছিলো জমজমাট। রবীন্দ্র সদন চত্বর থেকে শুরু করে শহরের পাবলিক বাসগুলোতেও এদিন এই বিশেষ ভৌতিক পোশাক ও সাজে সজ্জিত তরুণীদের যাতায়াত করতে দেখা যায়, যা সাধারণ যাত্রীদের চমকে দেওয়ার পাশাপাশি বেশ বিনোদন জুগিয়েছে। পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে তরুণীদের সাথে সেলফি তোলেন এবং অনেকেই তাদের এই অদ্ভুত ও সৃজনশীল সাজের প্রশংসা করেন। শুধু বড়রাই নয়, বেশ কিছু শিশুকেও এই বার্ষিক উৎসবে বিভিন্ন ভূতুড়ে চরিত্রে সেজে অংশ নিতে দেখা গেছে।
মনেহচ্ছে যেন শহরজুড়ে হ্যালোইন ‘জ্বর’। ক্যালেন্ডারের পাতায় হ্যালোইন আজ অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর শনিবার হলেও, কলকাতায় সপ্তাহান্তের শুরু থেকেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। কয়েকদিন পরেই বাঙালির নিজস্ব ‘ভূত চতুর্দশী’ ও দীপাবলি, আর তার ঠিক আগেই হ্যালোইনের এই উদযাপন শহরবাসীর আনন্দের পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিলোত্তমার একাধিক নামী ক্যাফে, বার, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে যেমন পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ ও দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ কস্টিউম পার্টি, ভৌতিক থিম ডিনার এবং ডিজে নাইট। নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারেও দেদার বিকিয়েছে হ্যালোইন মাস্ক ও হরর কস্টিউম। সব মিলিয়ে বিশ্বজনীন এই উৎসবকে নিজেদের মতো করে আপন করে নিতে কলকাতা যে পুরোপুরি তৈরি, শুক্রবারের এই পথ-উৎসবেই তার প্রমাণ মিলেছে।




