নিউজ ডেস্ক : রাজনৈতিক মঞ্চের কড়া ভাষণ বা নির্বাচনী প্রচারের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতির মণিকোঠায় ফিরলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর শেয়ার করা একটি পোস্ট ঘিরে এখন সর্বত্র চর্চা। রাজনীতির কঠিন খোলস ছেড়ে সেখানে এক নাতি তাঁর প্রয়াত ঠাকুমার প্রতি উজাড় করে দিয়েছেন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ঠাকুমা যিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
শেয়ার করা পোস্টে উঠে এসেছে শৈশবের এক অমূল্য স্মৃতির কথা। রাহুল স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ঠাকুমার কোলে বসে, তাঁর হাত দুটি শক্ত করে ধরে কীভাবে তিনি একসময় স্তোত্র উচ্চারণ করতেন। সেই সোনালী দিনের কথা মনে করে তিনি তুলে ধরেছেন বৃহদারণ্যক উপনিষদের সেই সুপরিচিত শ্লোক
"অসতো মা সদ্গময়
তমসো মা জ্যোতির্গময়
মৃত্যোর্মামৃতং গময়
ওঁ শান্তি, শান্তি, শান্তি।"
অর্থাৎ,অসত্য থেকে আমাকে সত্যের পথে নিয়ে যাও, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এবং মৃত্যু থেকে আমাকে অমৃতের অভিমুখে চালিত করো।
https://x.com/RahulGandhi/status/2116374609000083771?a=rMS_m4a9v82ryZ9Or1I&s=08
রাহুলের কথায়, ছোটবেলায় ঠাকুমার কণ্ঠে এই পবিত্র বাণীগুলো শুনে শুনে তিনি পুনরাবৃত্তি করতেন। এই শিক্ষা ও সংস্কারকে জীবনের সবচেয়ে অমূল্য প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “কী অপূর্ব এক উপহার তুমি আমাকে দিয়েছিলে দাদি! কী অসাধারণ এক দান। আমি কখনও এমনটা কল্পনাও করতে পারিনি।”
পোস্টটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সাদাকালো এক পারিবারিক মুহূর্তের ছবি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তরুণী ইন্দিরা গান্ধীর পাশে বসে রয়েছে ছোট্ট রাহুল। রাজনীতি ও ক্ষমতার টানাপোড়েন থেকে শতহস্ত দূরে, নিছক এক ঠাকুমা আর নাতির অন্তরঙ্গ রূপ ধরা পড়েছে ফ্রেমটিতে।
ভারতীয় রাজনীতিতে ইন্দিরা গান্ধী বরাবরই এক আপসহীন ও দৃঢ়চেতা নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তাঁর পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক দিকটি কেমন ছিল, রাহুলের এই পোস্ট যেন তারই এক ঝলক সামনে এনে দিল। জীবনের প্রারম্ভে ঠাকুমার দেওয়া এই নৈতিক পাঠ যে তাঁর জীবনদর্শন গঠনে কতটা প্রভাব ফেলেছে, রাহুলের লেখায় সেই অনুভূতিই ফুটে উঠেছে।




