স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটেও কি এ বার ফুটবলের ‘ব্যালন ডি’অর’-এর মতো জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দেখা যাবে? সেই সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) তাদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় এবং বৃহত্তর করে তোলার পরিকল্পনা করছে। ২০২৫ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ইচ্ছাকৃত ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ বার ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পারফরম্যান্সকে একত্র করে ২০২৭ সালে নতুন আঙ্গিকে ফিরতে চলেছে আইসিসি-র বার্ষিক পুরস্কার।
দীর্ঘদিন ধরে আইসিসি-র বার্ষিক পুরস্কারগুলি মূলত ডিজিটাল মাধ্যমে ঘোষণা করা হত। ফুটবলের ব্যালন ডি’অর কিংবা আমেরিকান ফুটবলের এনএফএল অনার্সের মতো কোনও বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হত না। ফলে ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়দের সম্মান জানানো হলেও সেই অনুষ্ঠান ঘিরে বিশ্বব্যাপী বিশেষ উত্তেজনা তৈরি হত না। এ বার সেই ছবিটা বদলাতে চাইছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
আইসিসি-র এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে জানিয়েছেন, ‘‘আইসিসি বেশ কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের বার্ষিক পুরস্কার প্রদান করে আসছে। তবে ২০২৫ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আমরা ইচ্ছাকৃত ভাবে স্থগিত রেখেছিলাম। কারণ, এই মঞ্চ কী ভাবে আরও কার্যকর এবং আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার প্রয়োজন ছিল।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সেই ভাবনাচিন্তার ফল হিসাবেই আমরা এখন আইসিসি-র পুরস্কারের জন্য নতুন পদ্ধতি তৈরি করছি। ২০২৭ সালে এই পুরস্কার ফিরবে। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালকে একত্রে একটি মরসুম হিসাবে বিবেচনা করা হবে। ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়, দল এবং কৃতিত্বকে আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ উপায়ে সম্মান জানানোই আমাদের লক্ষ্য।’’
আইসিসি-র পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল পুরুষদের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের জন্য স্যর গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি এবং মহিলাদের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের জন্য র্যাচেল হেহো ফ্লিন্ট ট্রফি। এ ছাড়াও টেস্ট, এক দিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। উদীয়মান ক্রিকেটার এবং সহযোগী দেশগুলির ক্রিকেটারদের জন্যও রয়েছে পৃথক বিভাগ।
২০২৪ সালের পুরস্কারে পুরুষদের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন ভারতের জসপ্রীত বুমরা। মহিলাদের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কের। কিন্তু ২০২৫ সালের পুরস্কার ঘোষণা না হওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। আইসিসি-র এই সিদ্ধান্তের পর সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে।
ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সূচিতে নিজেদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে আসতে চাইছে আইসিসি। ফুটবলের ব্যালন ডি’অর প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিপুল আগ্রহ তৈরি করে। ক্রিকেটেও একই ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা গেলে খেলোয়াড়দের স্বীকৃতির পাশাপাশি খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনুষ্ঠানটি ঠিক কোথায় হবে, কোন কোন নতুন বিভাগ যুক্ত হবে কিংবা পুরস্কার নির্বাচনের পদ্ধতিতে কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত নতুন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ২০২৭ সালে আইসিসি-র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ফিরলে ক্রিকেটের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে নতুন এক আকর্ষণ যোগ হতে পারে।




