নিউজ ডেস্ক: ভরসকালে দেওয়ালে সাঁটানো পোস্টার ঘিরে হঠাৎই শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নামে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও তার সংলগ্ন একাধিক এলাকায় পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই প্রচার চালাল, আর তার উদ্দেশ্যই বা কী তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল জায়গায় আচমকাই নজরে আসে এই পোস্টারগুলি। তবে পোস্টারগুলিতে নির্দিষ্টভাবে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে কিংবা কী দাবি তোলা হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এমনকি পোস্টারের নীচে কোনও দল, সংগঠন বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অথচ বেনামে বা রহস্যজনকভাবে সাঁটানো এই পোস্টারগুলি দেখামাত্রই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও চাপা গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই শাসক-বিরোধী শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ ও পরিচিত নেতার নামে এমন পোস্টার পড়ার ঘটনা নিছক কোনও স্থানীয় ক্ষোভ, নাকি এর পেছনে কোনও গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দলের অন্দরের কোনও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি বিরোধীদের পরিকল্পিত চাল তা নিয়ে চায়ের ঠেক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিরোধীরা যেখানে বিষয়টিকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না, তেমনই দলের একাংশের দাবি, বিভ্রান্তি ছড়াতেই কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করে থাকতে পারে।
তবে গোটা বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিরহাদ হাকিমের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলেও এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তাঁর প্রতিক্রিয়া সামনে এলে বিতর্কের আসল প্রেক্ষাপট বা পোস্টার-কাণ্ডের নেপথ্য কারণ অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পোস্টারের সূত্র ধরে কারা এই কাজ করল, তা নিয়ে এলাকায় শুরু চাপানউতোর ।




