স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতে শেষ পর্যন্ত আসা হবে তো পাকিস্তান হকি দলের? আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জলন্ধর এবং মোহালিতে বসতে চলেছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। যেখানে ভারত, চিন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও অংশ নেওয়ার কথা। তবে তার আগেই পাক হকি দলের ভারতে আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। দলটির আসন্ন ভারত সফর এখনও সে দেশের সরকারের ছাড়পত্রের ওপরেই নির্ভরশীল বলে জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন। ফেডারেশন প্রধান মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানি জানিয়েছেন, সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই তাঁরা মেনে চলবেন।
পাকিস্তানের নামী সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানি বলেছেন, "পাকিস্তান দলের সফর সরকারের অনুমোদনের উপর নির্ভর করছে। সরকার আমাদের যা করতে বলবে, আমরা সেটাই করব।" সোমবার পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান অবশ্য জানিয়েছেন, আগামী মাসে পাকিস্তান দল ভারতে আসবে। তাঁর বক্তব্য, বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় ভারত-পাকিস্তানের খেলা নিয়ে কোনও সমস্যা বা জটিলতা নেই। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অনুমতি রয়েছে।
গত ৫ মে একটি অফিস মেমোরেন্ডামের মাধ্যমে ক্রীড়া মন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতে আয়োজিত বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা এবং দল অংশ নিতে পারবে। একই সঙ্গে ক্রীড়াবিদ, আধিকারিক এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থাও আরও সহযোগিতাপূর্ণ করার কথা জানানো হয়েছিল। সেই নীতির ভিত্তিতেই এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার লিগ পর্ব ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত জলন্ধরে হবে। ৪ নভেম্বর সেমিফাইনাল এবং ৫ নভেম্বর ফাইনাল।
সবচেয়ে বেশি নজর অবশ্য ১ নভেম্বরে। ওই দিনই জলন্ধরে ভারত-পাকিস্তান মহারণ হওয়ার কথা। আবার দিনটি পাঞ্জাব দিবস হওয়ায় ম্যাচটির আকর্ষণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন মান। তাঁর কথায়, এই ম্যাচই প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও এ বিষয়টি ঝুলিয়েই রেখেছে। ফলে তাদের তরফে চূড়ান্ত সবুজ সঙ্কেত না পাওয়া পর্যন্ত সেই ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। গত বছর তামিলনাড়ুতে জুনিয়র বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান। তার আগে রাজগীরে পুরুষদের এশিয়া কাপ থেকেও তারা নাম প্রত্যাহার করেছিল। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণ দেখিয়েই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। ফলে এ বারও ভারত-পাকিস্তান হকি ম্যাচ মাঠে গড়ায় কি না, তা নিয়ে ক্রীড়ামহলের নজর থাকবে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে।