নিউজ ডেস্ক: থাইরয়েড বাড়লে আসে নানা সমস্যা। থাইরয়েড গ্রন্থিতে থাকা থাইরক্সিন হরমোন মাত্রার তারতম্যে শরীরে প্রভাব ফেলে। ব্লাডপ্রেসার, হৃদয় বিপাকক্রিয়া এসবই নিয়ন্ত্রন করে থাইরয়েড গ্রন্থি। তাই এই হরমোন সামান্য কমবেশি হলেই আসে ক্লান্তি, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড়ানি, অল্পতেই ঠান্ডা লাগা, রুক্ষ ত্বক সহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রার সঙ্গে ওজন বাড়া-কমাও ঘটে।
থাইরয়েডের কারণে বারণ হয়ে যায় বাঁধাকপি, ফুলকপি, সয়াবিন, পনির, চিজ, মুলো ইত্যাদি। অনেক রকম খাবারের উপর ঘটে বিধিনিষেধ। খেতে হয় মেপে বুঝে। বেশ কিছু খাবারে টানতে হয় রাশ। তবে এরই মধ্যে বেশ কিছু খাবার থাইরয়েডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। জিঙ্ক, আয়োডিন, কপার, আয়রনের মতো খনিজ থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখে। জেনে নিন জলখাবারে কী কী খেলে থাইরয়েড থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
১) পালং-পুর ভরা অমলেট:
ভাপানো এবং জল ঝেড়ে নেওয়া পালংশাক, কুচোনো পেঁয়াজ- ওমলেটে পুর দিন। স্বাদমতো নুন, গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। মনে রাখবেন সমস্ত রান্নাটিই করতে হবে অল্প আঁচে, অল্প তেলে। একসঙ্গে জড়িত আছে ডিমের পুষ্টিগুণ রক্ষার ব্যাপারটিও। এর সাথে ১/২টি মাল্টিগ্রেন পাউরুটি বা মাখন টোস্ট খাওয়া যেতে পারে। এই জলখাবারে সঙ্গে অবশ্যই রাখবেন স্যালাড। ডিমে থাকে সেলেনিয়াম এবং পালংশাকে থাকে ম্যাগনেশিয়াম ভিটামিন বি।
২) মুগডাল চিলা:
মুগডাল এক ঘন্টা ধরে ভিজিয়ে নিন। এরপর ভেজানো মুগডাল পাতলা করে বেটে নিন। ওই মিশ্রণটির মধ্যে কুচানো পেঁয়াজ এবং আদা কুচি মিশিয়ে নিন। কড়াইয়ে অল্প তেল দিন। ওই তেলে মিশ্রণটিকে দিয়ে গোল পাতলা চিলা বানিয়ে ফেলুন। চিলার ওপর পনির, আখরোটকুচি, চাট মশলা ছড়িয়ে চিলাটি আড়াআড়ি মুড়ে নিন। মুগডালে থাকে জিঙ্ক এবং প্রোটিন। যা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।।
৩) কাবলি ছোলা মিক্সচার:
কাবলি ছোলা সেদ্ধ করে আদা-জিরে বাটা, টম্যাটো দিয়ে কষিয়ে ঘুগনি বানিয়ে নিন। গাজর, শসা, পেঁয়াজকুচি, ভাজা মশলা দিয়ে গার্নিশ করুন। সঙ্গে রাখুন স্যালাড এবং ফল। বিশেষত আপেল বা পেয়ারা। কাবলি ছোলায় আছে ফোলেট, কপার, আয়রন সহ বহু খনিজ। এগুলি থাইরয়েড গ্রন্থি রক্ষা করে।
৪) ডিম সেদ্ধ বা অমলেট:
ডিমে থাকে প্রোটিন, সেলেনিয়াম ও আয়োডিন। এগুলি থাইরয়েডের নিয়ন্ত্রণও করে, এবং কার্যকারিতা বজায় রাখে। কুসুমসহ ডিম থাইরয়েড রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অল্প অলিভ অয়েল বা সরষের তেলে ক্যাপসিকাম, গাজর ও পেঁয়াজ দিয়ে ডিমের ভুরজি খেলেও থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এছাড়াও খেতে পারেন ১)ওটসের খিচুড়ি অথবা দুধে ফোটানো ওটস। ২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে প্রচুর সবজি দিয়ে তৈরি ডালিয়ার উপমা একটি চমৎকার। ৩) হোল-হুইট বা আটার পাউরুটির সাথে পনির এবং শসা-টমেটো দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ খেতে পারেন। ৪)টাটকা ছানায় গোলমরিচ গুঁড়ো এবং সামান্য বিট নুন মিশিয়ে খেতে পারেন।