নিউজ ডেস্ক: কনডম যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায়। কিন্তু শুধু কনডম ব্যবহার করলেই হবে না, সঠিকভাবে ব্যবহার করাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারের সময় কিছু সাধারণ ভুল করলে কনডম ছিঁড়ে যেতে পারে, খুলে যেতে পারে বা এর সুরক্ষা কমে যেতে পারে।
১. মেয়াদ না দেখে কনডম ব্যবহার
অনেকেই প্যাকেট খুলেই কনডম ব্যবহার করেন। কিন্তু তার আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে কি না এবং প্যাকেটটি ক্ষতিগ্রস্ত কি না দেখে নেওয়া জরুরি। প্যাকেট ছেঁড়া, ফুটো বা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো।
২. যৌনসম্পর্কের মাঝপথে কনডম পরা
কনডম যৌনাঙ্গের সংস্পর্শ হওয়ার আগেই পরতে হয়। শুরুতে কনডম ছাড়া যৌনাঙ্গের সংস্পর্শের পর পরে কনডম ব্যবহার করলে সংক্রমণ বা গর্ভধারণের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
৩. ভুলভাবে কনডম পরা
কনডমের সঠিক দিক বুঝতে ভুল হওয়া বেশ সাধারণ। ভুল দিকে বসিয়ে পরে সেটি উল্টে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। একবার যৌনাঙ্গে লাগার পর উল্টে একই কনডম ব্যবহার না করে নতুন কনডম নেওয়া উচিত।
৪. ডগার অংশে জায়গা না রাখা
কনডম পরানোর সময় মাথার ছোট রিজার্ভয়ার বা ডগার অংশটি চেপে ধরে বাতাস বের করে দিতে হয়। সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে বীর্য জমার জায়গা কমে যায় এবং কনডম ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫. দুইটি কনডম একসঙ্গে ব্যবহার
‘দ্বিগুণ সুরক্ষা’র জন্য একসঙ্গে দুটি কনডম ব্যবহার করা ভুল। ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে বরং কনডম ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। পুরুষ কনডমের সঙ্গে আরেকটি পুরুষ কনডম একসঙ্গে ব্যবহার করা উচিত নয়।
৬. তেলজাতীয় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার
ল্যাটেক্স কনডমের সঙ্গে তেল, পেট্রোলিয়াম জেলি বা তেলভিত্তিক কিছু লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করলে কনডম দুর্বল হয়ে ছিঁড়ে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে কনডমের উপযোগী water-based বা silicone-based lubricant ব্যবহার করা নিরাপদ বিকল্প।
৭. ব্যবহারের পর ভুলভাবে খুলে ফেলা
বীর্যপাতের পর যৌনাঙ্গ পুরোপুরি শক্তি হারানোর আগেই কনডমের গোড়া ধরে ধীরে বের করা উচিত। এতে কনডম খুলে যাওয়া বা বীর্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। ব্যবহৃত কনডম ডাস্টবিনে ফেলতে হবে; টয়লেটে ফ্লাশ করা উচিত নয়।
৮. একই কনডম দ্বিতীয়বার ব্যবহার
কনডম একবার ব্যবহার করার পর আর ব্যবহার করা যায় না। প্রতিবার যৌনসম্পর্কের জন্য নতুন কনডম প্রয়োজন। কনডম শতভাগ ঝুঁকিমুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে প্রতিবার এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও বহু যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। কনডম ছিঁড়ে গেলে বা খুলে গিয়ে সুরক্ষা ব্যাহত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসক বা যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।