আসানসোল, নিউজ ডেস্ক: দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা! এরকম চরম নিদর্শনটি ঘটেছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে। ঘটনাস্থল আসানসোল। শনিবার রাতে সেখানে ঘটে গিয়েছে একটি ভয়াবহ ডাকাতির চেষ্টা। রাতের অন্ধকারে নির্জন রাস্তায় বাইক চালাচ্ছিলেন এক যুবক।সেই সময় ছিনতাই করতে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী ওই বাইক আটকে দেয়। লুট করার চেষ্টা দুষ্কৃতীরা। এই সময়ই রুখে দাঁড়ান ওই বাইক আরোহী। রীতিমতো টক্কর দেন ছিনতাইবাজদের সঙ্গে। হাতাহাতিও চলে বেশ কিছু সময়। তবে শেষ অবধি তাঁকে কব্জা করতে না পেরে ওই আরোহী কে ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। কিন্তু সব থেকে চমকপ্রদ ঘটনাটা ঘটেছে এখানেই। যে ওই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাইক আরোহীর পায়ে গুলি করে যায়।
গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তির নাম হরিদাস লায়েক। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওই বাইক আরোহী পেশায় একজন নৈশপ্রহরী। আসানসোলের শ্রী হরি গ্লোবাল স্কুলে কর্মরত। তার বাড়ি আসানসোলের সালানপুরে। সালানপুরের অন্তর্গত আল্লাডি পঞ্চায়েতের ধাগুড়ি গ্রামে বাস করেন তিনি। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেই ওই নির্জন রাস্তাটি পরে। সেখান দিয়ে তিনি যখন পারাপার করছিলেন, তখনই ছিনতাইবাজরা এসে তাঁর গাড়ি আটকে ছিল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওই দুষ্কৃতীদের সকলেরই মুখ মুখোশে ঢাকা ছিল! এই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কার্তুজের একটি খালি খোল উদ্ধার করেছে। এছাড়াও দুষ্কৃতীদের খোঁজে বিভিন্ন দিকে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এমনকি পুলিশের তরফ থেকে এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে নাকা-চেকিং। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওই এলাকার সিসি টিভি ফুটেজ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার প্রণব কুমার, ডিসি (পশ্চিম) সানা আখতার, ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস। এছাড়াও ছিলেন পুলিশের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকেরা। তবে সূত্র জানিয়েছে, রাতে নির্জন রাস্তায় ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় নিরাপত্তা কর্মী হরিদাস নায়েককে উদ্ধার করেন পুলিশকর্মীরা। আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা। আরো জানা যায় একেবারে স্কুলের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। তিন জন যুবক বাইকে হরিদাসকে ধাওয়া করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ছিনতাই করতে পারেনি।
হরিদাসের ভাই বৃন্দাবন জানান, 'রাত ৯টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন দাদা। ঘটনাটি ঘটে সাড়ে ৯টা নাগাদ। রোজই দাদার নাইট ডিউটি থাকত। রোজ ফলো করেছে ওরা। এর পরেই এই ঘটনা। একটা বাইকে তিনজন ছিল। মুখে কাপড় বাঁধা। দাদার বাইকের পিছন থেকে ফলো করে ব্যাগটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে পায়ে এক রাউন্ড গুলি চালায়। এর পরেই দাদা বাইক থেকে পড়ে যায়। রক্তাক্ত হয়েও পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে দুষ্কৃতীদের ছবি তোলার চেষ্টা করে। ততক্ষণে যদিও পালিয়ে যায় তিন দুষ্কৃতী।' হরিদাসের ভাই আরও জানান- ‘দাদাকে আসানসোল ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত স্থিতিশীল তিনি।’