হাসনাবাদ, নিউজ ডেস্ক: ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় দেখা মিলছিল না তৃণমূল নেতার। এক জায়গায় নয়, বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করা হল হাসনাবাদের বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা শহিদুল শেখকে। হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং বসিরহাট জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ বা SOG যৌথভাবে এই অভিযান চালায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহিদুল শেখকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে হাসনাবাদ থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বিজেপি কর্মীদের মারধর, দোকানে আগুন লাগানো, ভোট-পরবর্তী হিংসা, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি, তোলাবাজি এবং মস্তানি। এছাড়াও পঞ্চায়েতের টাকা তছরুপ এবং বিজেপি কর্মীদের খুনের হুমকি দিয়ে বাড়িছাড়া করার মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই শহিদুল শেখ গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এলাকায় তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশও তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান বদলে তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। শেষ পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন পুলিশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করা হয় চেন্নাইয়ে।
এরপর হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং বসিরহাট জেলা পুলিশের SOG-এর একটি দল তামিলনাড়ুতে পৌঁছয়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় শহিদুল শেখকে। গ্রেফতারের পর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চেন্নাই থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে আনা হবে। এরপর আগামী সোমবার তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
শহিদুল শেখের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তের পরেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
পুলিশের এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ না পাওয়া ওই তৃণমূল নেতাকে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের বাইরে গিয়ে গ্রেফতার করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন তাঁকে আদালতে পেশ করার পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলির ভিত্তিতে পুলিশ কী কী তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই নজর রয়েছে।