হাবিবুর রহমান, ঢাকা: একজন মানুষ কত হিংস্র হলে আরেকজনকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে। এদের কাছে দয়া-মায়া মনে হয় তুচ্ছ। অবশ্য বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গণপিটুনি, রাজনৈতিক সহিংসতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অপবাদের জেরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মতো বেশ কিছু নৃশংস কাণ্ড ঘটেছে।
ফের ময়মনসিংহ জেলায় দীপু চন্দ্র দাসের ছায়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের ১৭ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জেঁকে ধরেছিল মব সন্ত্রাস। প্রাণ গিয়েছিল বহু জনের। ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে জেলার ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে এবং শরীরে আগুন ধরিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
ফের জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবককে শরীরে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ কাণ্ডে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নিহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তবে এ মামলায় বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছি। আশা করছি, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে।’
গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় হামলার শিকার হন ফরহাদ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ফরহাদের বাবা আব্দুস সাত্তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তাঁর ছেলে বেকার মুক্তি আন্দোলন, মাদকবিরোধী আন্দোলন, বাল্যবিবাহবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ছেলে বাসা থেকে বের হন। এ সময় দুজন লোক তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ছেলে বাঁচার জন্য পাশের ঝোপঝাড়ে গড়াগড়ি করে, কিন্তু আগুন নেভাতে ব্যর্থ হওয়ায় রাস্তার দিকে দৌড়ে উঠতে থাকেন। পরে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।