কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবার আরও প্রকাশ্যে। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, শোভনদেব বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য বিধায়কদের সই জাল করেছিলেন। এমনকি, তাঁর কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দুই শিবিরে ভাগ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মদন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়ে মদন মিত্র প্রশ্ন তোলেন, কেন এই পরিস্থিতি তিনি সহ্য করলেন। শোভনদেবের নাম না করে তাঁকে আক্রমণ করে মদনের কটাক্ষ, একজন বয়স্ক ব্যক্তি বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য অন্য বিধায়কদের দাঁড় করিয়ে সই জাল করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “এত হ্যাংলা?” এরপরই অবশ্য শোভনদেবের নাম সরাসরি করে তাঁর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
মদনের দাবি, গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিশন বসলে সবকিছু সামনে চলে আসবে। তাঁর অভিযোগ, শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করার জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মিথ্যে বলেছিল যে সবাই সই করেছেন। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে দলের মধ্যে বড়সড় বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে দাবি তাঁর।
বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সই জাল করার অভিযোগের সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে একটি রেজোলিউশন জমা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তৃণমূলের ৭০ জন বিধায়কের সই ছিল। পরবর্তীতে কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, রেজোলিউশনে থাকা সইয়ের সঙ্গে তাঁদের পুরনো স্বাক্ষরের মিল নেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান-সহ একাধিক নেতা কালীঘাট নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন বলে দাবি করা হয়েছে। সই জাল করার অভিযোগ নিয়ে বিধানসভায় অভিযোগও জমা পড়ে বলে জানা যায়। এরপর বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মদন মিত্রের বক্তব্যে সেই পুরনো বিতর্কই ফের সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনাগুলির কারণেই তৃণমূলের মধ্যে ভাঙন তৈরি হয়েছে। এমনকি, দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে মদন মিত্রের তোলা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্ত বা কোনও সরকারি সিদ্ধান্তে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের তরফেও এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনও প্রতিক্রিয়া এই মুহূর্তে সামনে আসেনি। ফলে মদনের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত আগামী দিনে আরও বাড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।