কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক মহলে ফের নতুন করে শোরগোল। কথার লড়াই যেন ক্রমে আরও তীব্র হয়ে উঠছে। অভিযোগ উঠছে এবং পাল্টা আসছে তার জবাব। আর সেই জবাবে কখনও পুরনো রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, ব্যঙ্গ আবার কখনও সরাসরি কড়া আক্রমণের সুর মিলছে। দলের অন্দরমহলের যখন একটি ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে, তখন প্রকাশ্যে মুখ খুলে নিজের অবস্থান জানালেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। নতুন করে চর্চায় কুনাল ঘোষের একটি ভিডিও বার্তা, যা ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুনাল ঘোষের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগে, তাঁর মন্তব্যকে কুরুচিকর বলে দাবি করা হয়েছে। এই নিয়ে দলের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেই অভিযোগের জবাব দিতেই বুধবার ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুনাল ঘোষ। কুনালের বক্তব্যের শুরুতেই ছিল তীব্র ব্যঙ্গাত্মক সুর। তিনি বলেন, তাঁর ছবি এবং কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এরপরই ব্যঙ্গাত্মক কটাক্ষের সুরে বলেন, অভিযোগের কারণে তিনি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছেন এবং ভয়ে কাঁপছেন। কুনালের এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে উদ্দেশ্য করে ব্যক্তিগতভাবে কোনও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুনাল ঘোষ। তাঁর দাবি, 'বেইমান', 'গাদ্দার', 'অকৃতজ্ঞ', 'মীরজাফর', 'বিভীষণ'- এই শব্দগুলি কোনও একজনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেননি। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে গিয়ে দলবদল করা প্রায় কুড়ি জনের প্রসঙ্গেই তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। কুনালের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয় লাভ করার পর এখন রাজ্যের পালাবদলের কারণে কয়েকজন দল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর নিশানা মূলত তাঁদের দিকেই। সাথে তিনি এও দাবি করেন, ক্ষমতার সময় পাশে থাকা এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ফেলার ঘটনাকে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখেন। পাশাপাশি, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বোঝাতে গিয়ে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই এর ঘটনাও টেনে আনেন তিনি। তিনি জানান, ওই দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পর তাঁকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি । সাংবাদিক হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এমনকি, পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না বলেও দাবি করেন কুনাল ঘোষ। তাঁর সাফ বক্তব্য, তিনি যাদের গাদ্দার বলেছেন তাঁদের আগে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে হবে। একইসঙ্গে, ৫৮ বছর বয়সে এসে অভিযোগ বা হুমকিতে তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেও বার্তা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কুনাল ঘোষের বক্তব্যকে নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।