কলকাতা, নিউজ ডেস্ক:রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার পেশ হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিলকে সমর্থন করতে গিয়ে একাংশের বামপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'জুটার সদস্যরা কবে কোথায় কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে।' শিক্ষকদের নিশানা করে বলেন, 'এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাদের, তাদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব- যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের এই সরকারি চাকরিতে এত অসুবিধা হচ্ছে, তারা চাকরি ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে পাকাপাকি হোলটাইমার হয়ে যান এবং নিউ মার্কেটে কৌটো হাতে চাঁদা তুলতে নেমে পড়ুন।’
এই বিলটি নিয়ে আপত্তি রয়েছে শিক্ষক মহলের একাংশের। তাঁদের আশঙ্কা, বদলির ক্ষমতা সরকারের হাতে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষক-কর্মীদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন JUTA-ও এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে।
বিলের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাঠামোয় শৃঙ্খলা ফেরানোর বার্তা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ফলে বিলটি ঘিরে আগামী দিনে রাজ্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় তৈরি করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। তবে বিরোধীদের পাশাপাশি শিক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
বিলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরকারের ভূমিকা কতটা থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর নামে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের স্বশাসনের কাঠামো দুর্বল হতে পারে।
তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করাই সংশোধনীর অন্যতম লক্ষ্য। সরকারের দাবি, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বা শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ। এখন বিধানসভায় বিলটির পরবর্তী ধাপ এবং শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের।