কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আজ কৌশিকী অমাবস্যা। হিন্দুদের ধর্মীয় জীবনে বিশেষ একটি দিন। আর তাই এই বিশেষ দিনে, কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে 'আমিষ বিতর্ক' কার্যত অবসান করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালীঘাট মন্দিরে জবার মালা, লাল বেনারসি শাড়ি দিয়ে মায়ের পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।মা কালীর পা ধুয়ে দিয়ে অঞ্জলি দেন তিনি। তারপর আরতিও করেন। মুখ্যমন্ত্রী পুজো দেন সন্ধ্যেবেলা।
পুজো শেষ করে মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন তিনি। মায়ের প্রসাদ ওই ভোগ ছিল আমিষ। প্রসাদের মধ্যে ছিল বাসন্তী পোলাও,মাছ ভাজা, মাছের মাথা। প্রসঙ্গত, মা কালীর ভক্তরূপে, শুভেন্দু অধিকারী প্রতিভাত হয়েছেন তারাপীঠ সফরের সময়। কালীঘাটে ভোগ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের তিনি জানান একজন সন্ত যা বলেছেন তা নিজের মত। যাদের গ্রহণ করার করবেন, যাদের গ্রহণ করার নয় করবে না।
ভোগ গ্রহণের পর চমক হিসেবে ওই ভোগ সকল ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর বক্তব্য 'মা যেন শক্তি দেন, দেশবিরোধী শক্তিকে যেন রাজ্য থেকে পরিষ্কার করতে পারি।' এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিষ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন ‘একজন সন্ত বাবা নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। যার গ্রহণ করার করবে, না করার করবে না। আমি নিজে অষ্টমীর দিন সাত্বিক আহার খাই। কার্তিক মাসেও সাত্বিক আহার গ্রহণ করি। আবার মায়ের মাছের ভোগও গ্রহণ করি। পাঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি। আজ দুপুরে মন্দিরে যা ভোগ দেওয়া হয়েছিল, মাছের মাথা, মাছ ভাজা ছিল, বাসন্তি পোলাও খেয়েছি। সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে। গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে। কখনও নিচে নামবে না।’
আমিষ বিতর্ক নিয়ে বঙ্গে বিজেপির শিবিরে চিড় ধরতে শুরু করেছিল। একদিকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবাকে প্রচ্ছন্ন মদত দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আবার অন্যদিকে রাজ্যের বেশ কিছু বিজেপি নেতৃত্ব এই মতের উল্টো স্রোতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বদল হবে না। কোন সাধুর পরামর্শে এ জিনিস বদল হবে না।' 'বাঙালি পুজোতে মাছ মাংস খাবে।' তাই সমস্ত বিতর্ককে থামাতে কালীঘাট মন্দিরে শুভেন্দু অধিকারীর এই 'আমিষ প্রসাদ গ্রহণ' এক 'মাস্টার স্ট্রোক' বইকি!
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোরালো হচ্ছে ‘খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা’ বনাম ‘ধর্মীয় অনুশাসন’-এর বিতর্ক। কালীঘাটে আমিষ ভোগ গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত বার্তা দিলেন,ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও খাদ্যপরম্পরারও নিজস্ব জায়গা রয়েছে। একই সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে সেই ভোগ বিতরণ করে বিতর্কের রাজনৈতিক তাপমাত্রা কিছুটা কমানোর বার্তাও দিলেন তিনি।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও যে থামছে না, তা বলাই বাহুল্য। বিজেপির অন্দরে আমিষ প্রসঙ্গে তৈরি হওয়া মতপার্থক্যের পর কালীঘাটের এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। একদিকে সাধু-সন্তদের বক্তব্যের প্রতি সম্মান, অন্যদিকে বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় আচার ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি অবস্থান—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার এই বার্তাই আপাতত সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।