কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একটি মন্তব্য ঘিরে যখন বাংলায় রাজনৈতিক মহলে এখনও বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই সামনে এল আরেক চমকপ্রদ পরিকল্পনা। দিন কয়েক আগে যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, সেই ধর্মীয় প্রচারকেই এবার ফের বাংলার মাটিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, এবার তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য কলকাতা নয়, মুর্শিদাবাদ। দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে পরিকল্পনা।
জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্র মুখোপাধ্যায়ের দাবি, পুজোর পর নিজের বিধানসভা এলাকায় ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে, কার্তিক মহারাজ কেও পুজোর পর এলাকায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে, কবে সেই অনুষ্ঠান হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট নয়। বিধায়কের বক্তব্য, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ফলে, পুজোর পর জঙ্গিপুরে বাগেশ্বর বাবার উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, তাঁর সফরের নির্দিষ্ট দিন এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
সম্প্রতি, হাওড়ায় বাগেশ্বর বাবার একটি সভাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছিল। দুর্গা পুজোর সময় মাছ, মাংস খাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। আমিষ খাবার খাওয়া বাঙ্গালীদের ‘পাখণ্ডী' বলা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ আসে। এমনকি, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছেও অভিযোগও দায়ের করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরেও তৈরি হয় প্রতিক্রিয়া। বাগেশ্বররের মন্তব্য কে নিয়ে পাল্টা অবস্থান নিতে দেখা যায় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বকে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য জানান, বাগেশ্বর নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে, বাঙালির নিজস্ব খাদ্য সংস্কৃতির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। বিজেপির তরফে আরও জানানো হয়েছে, বাগেশ্বর বাবা দলের সদস্য নন।
ফলে, বিতর্কের রেশ কাটার আগেই এই আবহে তাঁকে মুর্শিদাবাদে আনার উদ্যোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার পর জঙ্গিপুরে অনুষ্ঠান হলে, তা নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান কি হয়, সেদিকেই এখন নজর। আপাতত দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে জল্পনা যে ফের শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই যায়।
এদিকে, জঙ্গিপুরে এই অনুষ্ঠান আদৌ কতটা বড় আকারে আয়োজিত হবে এবং সেখানে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিধায়কের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, পুজোর পর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে এই অনুষ্ঠান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে, প্রশাসনিক অনুমতি এবং অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হাওড়ার বিতর্কের পর ফের বাংলায় বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে নতুন করে কর্মসূচির পরিকল্পনা রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। জঙ্গিপুরে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান হয় কি না, হলে তার বার্তা কী হয় এবং বিরোধী শিবির কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়,এখন সেদিকেই নজর থাকবে।