নিউজ ডেস্ক: কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সামনে এল আচমকা এমন এক সিদ্ধান্ত, যা নতুন করে নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সময়টাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বহু প্রতীক্ষিত চীন প্রেসিডেন্টের ভারত সফর, অন্যদিকে হঠাৎ এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকা দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ফের সক্রিয় করার পথে। ফলে, প্রশ্ন সামনে আসছে নিছক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কূটনৈতিক বার্তা।
দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ফের ভারতে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করতে চলেছে চীন। সূত্রে খবর, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে গুয়াংঝু ও নয়া দিল্লির মধ্যে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু করবে চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন এই রুটে বিমান চলাচল করবে। ফলে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফের সরাসরি আকাশ পথের মাধ্যমে যুক্ত হতে চলেছে ভারত ও চীন।
২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনার সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। এবং তার প্রভাব পড়ে বিমান যোগাযোগ সহ একাধিক ক্ষেত্রে। সেই পরিস্থিতিতে ফের সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘোষণার সঙ্গে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের যোগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।১৮ তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। প্রায় সাত বছর পর তাঁর ভারত সফর হতে চলেছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হতে পারে বলে সূত্রে খবর। ফলে, বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
পাশাপাশি, জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে চায়না সাদার্নের CZ360 বিমান রাত ৮টা ২০ মিনিটে ছাড়বে। পরদিন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে সেটি গুয়াংঝু পৌছবে। ফিরতি পথে CZ359 গুয়াংজু থেকে দুপুর ৩ টা ৩৫ মিনিটে রওনা দিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় দিল্লিতে পৌঁছবে। অর্থাৎ নিয়মিত যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের সামনে ফের সরাসরি আকাশপথের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ সরাসরি চালু হওয়াকে শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, ভারত চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধুমাত্র কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং পড়ুয়াদেরও সুবিধা হবে। সময় ও যাতায়াতের খরচ কমবে। একইসঙ্গে, দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাড়তে পারে বলে মনে করা হয়েছে। চায়না সাদার্ন জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি রুট মিলিয়ে তাদের সাপ্তাহিক উড়ানের সংখ্যা একশোর বেশি হবে। ফলে, চায়না সাদার্নের এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তনের সূচনা করে, এখন সেদিকেই নজর।