নয়াদিল্লি: ব্রিক্স সম্মেলনের মঞ্চে একের পর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতের কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা এবং যৌথভাবে সেনা প্রশিক্ষণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইথিওপিয়া ও মালয়েশিয়া। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎসে বৈচিত্র আনতে চাইছে, সেই সময়ে ভারতীয় সংস্থাগুলির তৈরি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি সিস্টেম, রাডার এবং বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি সম্প্রসারিত হচ্ছে।
ইথিওপিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের খনন শিল্পের সংস্থাগুলিকে ইথিওপিয়ায় আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং খনিজ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে ইথিওপিয়া। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য সেখানে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ইথিওপিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যৌথ প্রশিক্ষণ এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ভারতের বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গেও এই আলোচনা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্য দিকে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি, দক্ষ কর্মী তৈরি, সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেনে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়া বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা কৌশলগত ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার আগ্রহ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিষয়ে দেশটির আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার Su-30 যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্রটির আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম এবং আর্মেনিয়ার মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইতিমধ্যেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইথিওপিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারও আরও প্রসারিত হতে পারে।
দুই বৈঠকেই বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত যেমন বিদেশি সংস্থাগুলিকে দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে, তেমনই ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে বিদেশের বাজারে আরও সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। ফলে মোদীর এই বৈঠকগুলিকে শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।