নয়াদিল্লি: ব্রিক্স সম্মেলন ঘিরে যখন রাজধানী দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঠিক সেই সময়েই উত্তর-পূর্ব দিল্লির নন্দ নগরীতে মধ্যরাতে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব ঘিরে আতঙ্ক ছড়াল। শুক্রবার গভীর রাতে নন্দ নগরীর ডি-২ ব্লকে একদল যুবক আচমকাই হামলা চালায় বলে অভিযোগ। একাধিক বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাতের দিকে একদল লোক এলাকায় এসে প্রথমে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। অভিযোগ, সেই সময়েই গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলার ঘটনায় বাড়ির জানলা ও কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। রাস্তায় রাখা কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
হঠাৎ রাতের অন্ধকারে এমন হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। গুলির শব্দ এবং পাথর ছোড়ার ঘটনায় অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোনোর সাহস পাননি। স্থানীয়দের তরফে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ এখন হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিয়োও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার পুরো গতিপ্রকৃতি বোঝার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই হামলার পিছনে কয়েক বছর পুরনো একটি বিবাদ থাকতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, প্রায় সাত বছর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে বিবাদ হয়েছিল এবং সেই সময় পুলিশে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। তবে পুরনো বিবাদের জেরেই শুক্রবার রাতের হামলা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একসঙ্গে এতজন হামলাকারী কী ভাবে এলাকায় ঢুকল, কারা তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং হামলার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাতের অন্ধকারে গুলি চালানো, বাড়িতে পাথর ছোড়া এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।