কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে যখন নির্বাচন কমিশনে টানাপোড়েন চলছে, তখনই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, শুধু প্রতীক নিয়ে বিবাদ নয়, তৃণমূল দলটাই যদি উঠে যায়, তাহলে ভাল হয়। তাঁর অভিযোগ, এই দল বাংলার রাজনীতিকে কলুষিত করেছে এবং রাজ্যের ‘অনেক সর্বনাশ’ করেছে।
দিলীপের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, এদিনই জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনছে নির্বাচন কমিশন। একদিকে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। দুই পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। সেই দাবির সাংগঠনিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি খতিয়ে দেখছে কমিশন।
এই পরিস্থিতিতেই দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “কেউ প্রতীক পেল না”—এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি খুশি হবেন। তাঁর বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত যদি কোনও পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক না পায়, তাতেও তাঁর আপত্তি নেই। বরং পুরো দলটাই উঠে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তৃণমূলের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূল আসলে কোথায়, সেটাই এখন বোঝা যাচ্ছে না। দলের পরিচয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাকার হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মমতা যতদিন রাজনীতিতে থাকবেন, ততদিনই হয়তো মানুষ মনে রাখবে যে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে একটি রাজনৈতিক দল ছিল।
প্রতীক নিয়ে এই বিবাদের আইনি দিকও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সময় নির্বাচন কমিশন দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। শিবসেনার বিভাজনের সময় একনাথ শিন্ডে শিবিরকে মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদ্ধব ঠাকরে শিবির আদালতের দ্বারস্থ হয়।
শিবসেনা মামলার পর্যবেক্ষণকে ঘিরেও বাংলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ, দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত বিবাদে শুধুমাত্র বিধায়ক বা সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই শেষ কথা কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, সংবিধান এবং অন্যান্য নথিপত্রও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সাধারণত এই ধরনের বিবাদে দুই পক্ষের সাংগঠনিক শক্তি, দলীয় সংবিধান, প্রতিনিধিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট নথি খতিয়ে দেখে। প্রয়োজনে বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত দলীয় নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার নজিরও রয়েছে।
তবে বাংলার ক্ষেত্রে এখন নজর কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। সামনে উপনির্বাচন এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমাও ঘনিয়ে আসছে। ফলে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দুই শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দিলীপ ঘোষের এদিনের মন্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও উত্তপ্ত করে তুলল।