কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দেশভাগের ইতিহাস, বাংলার সনাতনী সংস্কৃতি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কেষ্টপুরে একটি গণেশপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই লড়াই না হলে এপার বাংলার মানুষের পরিস্থিতিও ওপার বাংলার মতো হতে পারত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
দেশভাগের সঙ্গে নিজের পরিবারের স্মৃতিও এদিন তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, শুধুমাত্র হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর মা-কে বরিশাল থেকে তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে চলে আসতে হয়েছিল। দেশভাগের সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা আজও তাঁর পরিবার এবং বহু মানুষের স্মৃতিতে রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, দেশভাগ শুধুমাত্র মানচিত্রের পরিবর্তন ছিল না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের ঘরছাড়া হওয়ার বেদনা।
এরপরই দীর্ঘ বাম শাসনকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩৪ বছরের বাম জমানার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ে বাংলার সনাতনী সংস্কৃতি, শাস্ত্র, পঞ্জিকা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যকে ধীরে ধীরে আড়ালে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। পুজোর মণ্ডপের পাশে বামেদের বইয়ের স্টল থাকলেও সেখানে বাংলার নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়গুলি যথেষ্ট গুরুত্ব পেত না বলেও দাবি করেন তিনি।
পুজোর রীতিনীতি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধনের মতো কিছু প্রথা বাংলার সনাতনী পরম্পরার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এবার থেকে দেবীপক্ষ তথা মহালয়া থেকেই পুজোর উদ্বোধনের ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। মহাষ্টমীতে শুচি-পবিত্র হয়ে অঞ্জলি দেওয়ার মতো পুরনো রীতিও ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অতীতের প্রতিমা নিরঞ্জন সংক্রান্ত বিতর্কও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শুভেন্দুর অভিযোগ, একসময় মহরমের কারণে বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কোনও ধরনের চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একইসঙ্গে ভাষা বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি এড়িয়ে বাঙালি, হিন্দিভাষী, গুজরাটি, মারোয়াড়ি—সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলার উন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থে বিভাজনের দেওয়াল সরিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
গণেশপুজোর মঞ্চে শুভেন্দুর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে, তেমনই ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে শুরু করে বাম শাসন ও পরবর্তী রাজনৈতিক সময়ের মূল্যায়ন নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।