নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আসল পরিচয় এবং জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন এবার পৌঁছল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। শনিবার কমিশনের ডাকে দিল্লিতে হাজির হয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে নথিপত্র জমা দিল ঋতব্রত তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট বৈঠকের পর বেরিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কার্যত একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তোলেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ‘না খাতা না বহি, জো ডক্টর মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি’ এই ধরনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলতে পারে না। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও পরিবারভিত্তিক দল নয় এবং কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়। দলের প্রকৃত মালিকানা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের হাতেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কমিশনের তরফে যে সমস্ত তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছিল, তার উত্তর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ঋতব্রত। যদিও কমিশনের ভিতরে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর দাবি, সংগঠনের শক্তির দিক থেকেও তাঁদের শিবির যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে। পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের পক্ষেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে। ঋতব্রত জানান, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই তার আগেই নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তাঁরা। বিকল্প কোনও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। অর্থাৎ জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ঋতব্রত শিবির।
বৈঠকের পর ঋতব্রত আরও বলেন, রাজনীতিতে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়, সাংবিধানিক তথ্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই শেষ কথা হওয়া উচিত। নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি গণৎকার নন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে আইনস্টাইনের যুক্তিবাদী চিন্তায় বিশ্বাস করেন।
এদিন প্রতিপক্ষ শিবিরের এক বর্ষীয়ান আইনজীবীকেও নিশানা করেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ওই আইনজীবী, তাঁর পরিবারের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে কতগুলি মামলা লড়েছেন এবং তাঁদের কত টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। এই বিষয়ে রাজ্যে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ফলে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের সংঘাত এখন কার্যত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে। সামনে উপনির্বাচন, হাতে সময়ও কম। কমিশনের সিদ্ধান্ত কোন শিবিরের পক্ষে যায়, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।