নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় দাবি করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ এবং গণনা, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং তাঁদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই কারণেই ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম স্বচ্ছ প্রক্রিয়া হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত বলে দাবি করেন তিনি।
গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অটল কালাম হলে ‘বুথ লেভেল অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময়’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বিশেষ করে ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখার ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-দের ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোটার তালিকা থেকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত, দ্বৈত নাম বা অন্য রাজ্যের ভোটারদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা BLO-দের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইসঙ্গে কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করা প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
নির্বাচনের আগে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও তুলে ধরেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর আগে রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে মক পোলের মাধ্যমে যন্ত্রগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ভোট শেষ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ইভিএম সিল করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিতে সই নেওয়া হয়।
ভোট গণনার সময়ও একইভাবে প্রার্থীদের গণনাকারী এজেন্টদের সামনে ইভিএমে পাওয়া ভোটের সঙ্গে ফর্ম ১৭সি-তে থাকা তথ্য মিলিয়ে দেখা হয় বলে জানান তিনি। অর্থাৎ নির্বাচনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও যাচাইয়ের সুযোগ থাকে বলে ব্যাখ্যা করেন জ্ঞানেশ কুমার।
ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধনের জন্য কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করেন এবং শুনানির মাধ্যমে তালিকার ভুলত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগ নেন।
তরুণ প্রজন্মকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও জোর দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আমেদাবাদে আয়োজিত পঞ্চম আঞ্চলিক সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তরুণদের মধ্যে গণতান্ত্রিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ইসিআইনেট অ্যাপ ব্যবহারের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজে ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাবের মাধ্যমে ভোট ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। ১৮ বছর বয়স হলেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নির্বাচনে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করার বার্তাও দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং ভোটগ্রহণের বিভিন্ন ধাপে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ, এই তিন বিষয়কেই এদিন বিশেষ গুরুত্ব দেন জ্ঞানেশ কুমার।