কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের সময় নিয়ে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পিতৃপক্ষের সময় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করিয়ে বাংলার সনাতনী ধর্মীয় পরম্পরা বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কেষ্টপুরে একটি গণেশপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই নিয়ে তৎকালীন শাসকদল এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রাদ্ধ-তর্পণের সময়। এই সময়ে শুভ কাজ না করার রীতিই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তাঁর দাবি, সেই পরম্পরার বাইরে গিয়ে পিতৃপক্ষেই দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের রেওয়াজ চালু করা হয়েছিল।
আগামী দিনে সেই রীতি বদলের কথা ঘোষণা করে শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপুজোর উদ্বোধন আর পিতৃপক্ষে নয়, দেবীপক্ষ তথা মহালয়া থেকেই করা হবে। একই সঙ্গে মহাষ্টমীর ধর্মীয় পবিত্রতা বজায় রাখার উপরেও জোর দেন তিনি। ওই দিন কোথাও মদ বিক্রি না করার বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, পুরনো দিনের মতো শুচি-শুদ্ধ পোশাকে মায়ের অঞ্জলি দেওয়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু দুর্গাপুজোর উদ্বোধন নয়, বাংলার সনাতনী সংস্কৃতির বিভিন্ন রীতিনীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। ঘট উত্তোলন, কলাবউ স্নান, বোধন, অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে শুরু করে বিজয়ার নিরঞ্জন বাঙালির পুজোর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঐতিহ্য অতীতে বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত এবং মন্ত্রোচ্চারণের মতো বিষয়গুলির গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। মহালয়া বা দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত নানা সাংস্কৃতিক রীতির ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভাষণে রাজনৈতিক আক্রমণও করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলার নিজস্ব সনাতনী সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে।
বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়েও অতীতের একটি বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। মহরমের কারণে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তিনি সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
তবে তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভাষা ও আঞ্চলিক বিভাজনের বিরোধিতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা, হিন্দিভাষী, গুজরাটি কিংবা মাড়োয়ারি পরিচয় আলাদা হলেও সনাতন সমাজের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন দুর্গাপুজো বড় আকারে পালিত হচ্ছে। লখনউ, পাটনা থেকে পুনে,বাঙালির দুর্গাপুজো ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে।
ভাষা বা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি ভুলে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, বাংলার সাংস্কৃতিক ও সনাতনী ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব কোনও একটি সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর নয়, সকলের।