নিউজ ডেস্ক, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় ধৃত মাওবাদীদের জেরা করেই মিলেছিল সূত্র। সেই সূত্র ধরে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডারের হদিস পেল যৌথ বাহিনী। উদ্ধার হল দু’টি INSAS রাইফেল, ১০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ছ’টি ম্যাগাজিন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া রাইফেলগুলির মধ্যে অন্তত দু’টি অতীতে পুলিশের কাছ থেকেই ছিনতাই করেছিল মাওবাদীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলায় কয়েক জন মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে মাওবাদীদের অস্ত্র মজুত করে রাখার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তকারীদের কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই করার পর ঝাড়খণ্ডের নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাঁকুড়া জেলা পুলিশ।
এর পর বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ঝাড়খণ্ডে অভিযান চালায়। অভিযানে অংশ নেয় ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং কোবরা বাহিনী। ঝাড়খণ্ডের সরাইকিলা এলাকার জঙ্গলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। জঙ্গলের ভিতরে তল্লাশি চালানোর সময়ই মাটির নীচে বা গোপন ভাবে রাখা অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান মেলে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় দু’টি INSAS রাইফেল। সঙ্গে ছিল ১০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ছ’টি ম্যাগাজিন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলিগুলি আপাতত পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। অস্ত্রগুলির সিরিয়াল নম্বর-সহ অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া INSAS রাইফেল দু’টির মধ্যে একটি ২০০৮ সালে এবং অন্যটি ২০১৩ সালে পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই করা হয়েছিল। সেই সময় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অভিযানের মধ্যে পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছিল। উদ্ধার হওয়া রাইফেলগুলি সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
শুধু ঝাড়খণ্ড পুলিশ নয়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশও আলাদা ভাবে তথ্য যাচাই করছে। অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এসেছিল, এত দিন কোথায় রাখা ছিল এবং এগুলি মাওবাদীদের কোন গোষ্ঠী ব্যবহার করত এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অস্ত্রভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও। ধৃত মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কোনও গোপন ডেরা বা অস্ত্র মজুতের জায়গার সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সে দিকেও নজর রাখছে পুলিশ।
একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যালিস্টিক ও নথিভুক্ত তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজও শুরু হয়েছে। পুলিশের তদন্ত এগোলে এই অস্ত্রগুলি অতীতে কোনও হামলা বা নাশকতার ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।