আলিপুরদুয়ার, নিউজ ডেস্ক: দরজা খুলতে এখনও কয়েক দিন। তার মধ্যেই ডুয়ার্সের জঙ্গল ঘিরে পর্যটকদের উৎসাহ তুঙ্গে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে জঙ্গল। আর তার আগেই গোরুমারা, জলদাপাড়া, বক্সা-সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল, রিসর্ট, লজ ও হোমস্টেগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে বুকিংয়ের হিড়িক। পুজোর ছুটির একটা বড় অংশের বুকিং ইতিমধ্যেই হয়ে যাওয়ায় মুখে হাসি পর্যটন ব্যবসায়ীদের।
তবে এই বাড়তি চাহিদার নেপথ্যে শুধু জঙ্গল ভ্রমণের আকর্ষণই দেখছেন না পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের একাংশের ধারণা, নেপালে সাম্প্রতিক হড়পা বান ও পাহাড়ি ধসের খবর পর্যটকদের একটি অংশের মনে পাহাড় ভ্রমণ নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ফলে পুজোর বেড়ানোর জন্য পাহাড়ের বদলে তুলনামূলক নিরাপদ ও সমতলের কাছাকাছি ডুয়ার্সকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে। তারই প্রতিফলন পড়ছে আগাম বুকিংয়ে।
ডুয়ার্সের তিন প্রধান জঙ্গল—গোরুমারা, বক্সা এবং জলদাপাড়া—পর্যটকদের কাছে বরাবরই অন্যতম আকর্ষণ। জিপসি সাফারির পাশাপাশি হাতি সাফারির অভিজ্ঞতা পেতেও বহু পর্যটক প্রতি বছর ভিড় করেন। ফলে জঙ্গল খোলার আগেই পর্যটকদের এই আগ্রহকে আসন্ন মরশুমের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসাবেই দেখছে পর্যটন মহল।
চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, তাঁর লজে পুজো পর্যন্ত প্রায় সমস্ত ঘরই বুক হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “বুকিংয়ের পরিস্থিতি ভাল। তবে জিপসি সাফারির বুকিং যদি অফলাইনের পরিবর্তে অনলাইনে করা যায়, তা হলে পর্যটকদের আরও সুবিধা হবে।”
শুধু চিলাপাতা নয়, গোটা ডুয়ার্সেই একই ছবি বলে দাবি পর্যটন ব্যবসায়ীদের। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি পার্থসারথি রায়ের মতে, জঙ্গল খোলার আগেই যে ভাবে বুকিং হচ্ছে, তা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। তাঁর ব্যাখ্যা, পাহাড়ের একাংশে ধস ও হড়পা বানের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবরের জেরে পর্যটকদের একটি অংশ এবার ডুয়ার্সমুখী হচ্ছেন। বুকিং বাড়ায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি ব্যবসায়ীরা।
পুজোর মরশুম সামনে রেখে একই প্রত্যাশা ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনেরও। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহার কথায়, পুজোয় জঙ্গল ভ্রমণের জন্য ডুয়ার্সে বুকিং ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মতে, ডুয়ার্সে এসে জঙ্গল সাফারির অভিজ্ঞতা নিতে চান বহু পর্যটক। সেই চাহিদা আরও বাড়াতে জিপসি সাফারির বুকিং দ্রুত অনলাইনে চালু করা প্রয়োজন।
এখনও অবশ্য সেই ব্যবস্থা চালু হয়নি। বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, আপাতত আগের নিয়মেই জিপসি সাফারির বুকিং হবে। রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশ এলে অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে। অর্থাৎ জঙ্গল খুললেও জিপসি সাফারির ক্ষেত্রে পর্যটকদের এখনই নতুন বুকিং ব্যবস্থার সুবিধা মিলছে না।
এর মধ্যেই জঙ্গল খোলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করছে বন দফতর। বৃহস্পতিবার থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে নজরদারি শুরু হয়েছে। জঙ্গল খোলার আগে এই নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বন দফতর।
সব মিলিয়ে নতুন পর্যটন মরশুম শুরুর আগেই ডুয়ার্সে ছবিটা আশাব্যঞ্জক। পাহাড়ের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আবহে পর্যটকদের একাংশের গন্তব্য বদল, তার সঙ্গে পুজোর ছুটিতে জঙ্গল দেখার চেনা আকর্ষণ—দুইয়ের জেরে ১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। এখন তাঁদের নজর একটাই—জঙ্গল খোলার পর এই ভিড় কতটা বাড়ে। আর পর্যটকদের দাবি, জিপসি সাফারির বুকিংও যদি দ্রুত অনলাইনে আসে, তা হলে সেই ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।