আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিকস লিডারস সামিটে যোগ দিতে ভারতে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কয়েকদিন ধরেই তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমস্টেকের চেয়ারম্যান হিসেবে। এই কারণেই তিনি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সামিটে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধিদলও ব্রিকস সামিটে যোগ দেবে না বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
বিমস্টেক বা Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation হল বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক একটি আঞ্চলিক জোট। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান—এই সাতটি দেশ এই জোটের সদস্য। ফলে বিমস্টেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দিলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বন্ধ হচ্ছে না। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসতে পারেন।
এর আগে চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বর মাসে তারেক রহমান ভারত সফরে আসতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সফর নিয়ে এখনও ভারত বা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।
তারেক রহমানের ব্রিকস সফর বাতিলের খবর এমন সময়ে সামনে এল, যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে নজর রয়েছে। ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিমস্টেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সম্মেলনে যোগ না দেওয়ায় আমন্ত্রণের ধরন এবং বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
তবে বাংলাদেশের সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিষয়টি মূলত আমন্ত্রণের অবস্থান ও পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। একইসঙ্গে ভারত সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে দেখা না গেলেও ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা থাকছে।
এখন নজর থাকবে, দুই দেশের আলোচনার পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের দিনক্ষণ কবে চূড়ান্ত হয় এবং সেই সফরে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনায় আসে।