আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচা দখল করেছে হুথি বিদ্রোহী বাহিনী। সরকারি সেনার সঙ্গে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তীব্র লড়াইয়ের পর এই বন্দরনগরীর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে গিয়েছে বলে খবর। এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে বাব আল-মান্দেব প্রণালী। আফ্রিকার জিবুতি ও এরিট্রিয়ার কাছ দিয়ে যাওয়া এই সরু জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণে এই নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মোচার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ার ফলে বাব আল-মান্দেবের উপর তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজের উপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা করেছিল হুথি বাহিনী। পরবর্তীতে সৌদি ও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও ওঠে।
হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাইজ, আল-জাউফ, মারিব এবং আল-দালি-সহ বেশ কয়েকটি এলাকার পরিস্থিতির দিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ বা জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার দিকে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেবেও যদি নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি হয়, তাহলে জ্বালানি পরিবহণের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। জাহাজগুলিকে বিকল্প দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হলে পরিবহণের সময় এবং খরচ—দুটিই বাড়বে।
তবে বিকল্প পথ একেবারে নেই এমন নয়। ভারত মহাসাগর দিয়ে ঘুরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণ করা সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে সেই পথে পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
মোচা দখলের পর হুথিদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা কতটা বজায় থাকে, তার উপরই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ভর করবে।
নিউজ সোর্স: