নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বাগেশ্বর বাবা। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে তিনি জানান, বাঙালির খাওয়াদাওয়া বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বরং দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল ও দেবীর আশপাশের পরিবেশের পবিত্রতা বজায় রাখার কথাই তিনি বলতে চেয়েছিলেন।
গ্লাসগো থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা বলেন, “আমি আপনার খাওয়া নিয়ে কেন বলব! আপনারা তো আমাদের নিজের।” তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গে তিনি শুধুমাত্র বলেছিলেন, দেবীর আশপাশের জায়গায় যেন পবিত্রতা বজায় রাখা হয়। তাঁর কথায়, প্যান্ডেলে মাছ-মাংস না খেয়ে বাড়িতে খাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার উপর কোনও নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
বাগেশ্বর বাবা আরও বলেন, ধর্মগুরু হিসেবে তিনি হিংসার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি তাঁর মূল বক্তব্যের অন্যরকম ব্যাখ্যার ফল বলেই কার্যত ইঙ্গিত করেন তিনি।
তবে তাঁর আগের মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে ভবানীপুরে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস। কর্মী-সমর্থকেরা ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভ চলাকালীন বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিধানসভাতেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। নিজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা নিজের মতো করে বলেছেন। কেউ তাঁর কথা গ্রহণ করবেন, কেউ করবেন না এটাই স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় কড়া অবস্থান নেন তিনি। পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
এর মধ্যেই স্কটল্যান্ড থেকে বাগেশ্বর বাবার নতুন ব্যাখ্যা সামনে আসায় দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।